সম্পাদকের কলমে
পৌষ আসে হিমেল হাওয়ায়,—
সোনার ফসল নাচে দোলায়।
খেজুর রসে মিষ্টি সকাল,
নবান্নের আতপ চাল।
কুয়াশা মাখা ভোরের বেলা,
শালিক খেলে লুকোচুরি খেলা।
সরষে ফুলের সোনার আভায়
মন যেন কোন সুদুরে ধায়।
পৌষ মানেই অন্তরের দিকে ফেরার ডাক। কুয়াশার চাদরে ঢাকা ভোর, শীতল রোদে
গরম চায়ের ধোঁয়া, আর বছর জুড়ে জমে থাকা অভিজ্ঞতার নীরব হিসেব—সব
মিলিয়ে পৌষ আমাদের থামতে শেখায়, শুনতে শেখায়। সেই থামার মুহূর্তেই
শব্দেরা স্পষ্ট হয়, বর্ণেরা নিজেদের কথা বলে। বর্ণে বর্ণে–র এই পৌষালী
সংখ্যা সেই শোনা ও বলা—দু’য়েরই মিলনস্থল।
দ্বিতীয় বছরের চতুর্থ সংখ্যায় এসে আমরা আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—ভাষা
কেবল প্রকাশের মাধ্যম নয়, তা সম্পর্কের সেতু। এই সংখ্যায় গল্প, কবিতা,
প্রবন্ধ ও স্মৃতিরেখা একে অন্যের দিকে হাত বাড়িয়ে আছে। ব্যক্তিগত
অভিজ্ঞতা এখানে সমষ্টির অনুভূতিতে রূপ নিয়েছে; নীরবতা কথা বলেছে, আর
কথার ভেতর খুঁজে পাওয়া গেছে নীরবতার গভীরতা। শীতের মৃদু আলোয় যেমন
রঙগুলো আলাদা করে ধরা পড়ে, তেমনি এই সংখ্যায় প্রতিটি রচনা তার নিজস্ব
স্বরে উজ্জ্বল।
ডিজিটাল পরিসরের দ্রুততার মাঝেও আমরা ধীরে পড়ার আনন্দকে লালন করতে
চেয়েছি। ই-পত্রীকার পরিসরে থেকেও ছাপার গন্ধের মতো উষ্ণতা—এই আমাদের
সাধনা। নতুন লেখকের সাহসী প্রথম পা, অভিজ্ঞ কলমের সংযত দীপ্তি—সব মিলিয়ে
বর্ণে বর্ণে এক চলমান সংলাপ। এখানে মতভেদ আছে, আছে প্রশ্ন; আছে
উত্তরহীনতার সৌন্দর্যও। কারণ সাহিত্য প্রশ্ন তুলতেই শেখায়—আর সেই
প্রশ্নই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায়।
এই পৌষালী সংখ্যায় আমরা পাঠকের সক্রিয় উপস্থিতিকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতার
সঙ্গে স্মরণ করি। আপনাদের পাঠ, প্রতিক্রিয়া ও অংশগ্রহণ আমাদের পথচলাকে
অর্থবহ করে তোলে। আগামী সংখ্যায় আরও বিস্তৃত পরিসর, আরও বৈচিত্র্য নিয়ে
ফিরতে চাই—শেকড়ের দৃঢ়তা আর আকাশের মতো মুক্ত হয়ে।
পৌষের শান্তি আপনাদের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক। বর্ণে বর্ণে—এই যাত্রা
চলুক, শব্দের উষ্ণতায়, ভাবের আলোয়।
নমস্কারান্তে —
অনিন্দিতা গুড়িয়া,
সম্পাদক, নিউ-দিল্লি
প্রসেনজিৎ দাস,
যুগ্ম-সম্পাদক, পশ্চিম মেদিনীপুর
বর্ণে বর্ণে- বাংলা ই পত্রিকা ২য় বৎসর, ৪র্থ সংখ্যা
পৌষালী ১৪৩২,/ জানুয়ারি ২০২৬