সম্পাদকের কলমে
ফুরিয়ে এলো শীতের বেলা রোদে তাপের আভাস—
পাতার ফাঁকে হিল্লোল তোলে দুষ্টু দক্ষিণ বাতাস।
শিমুল-পলাশ আগুন রাঙা, ধরায় রঙের ঢেউ,
মৌমাছিরা গুনগুনিয়ে খাচ্ছে ফুলের মৌ।
কোকিল ডাকে “এসো এসো”- ফাগুন এলো ঘরে
মন মাতানো ফাগুন হাওয়ায় মন আনচান করে।
ফুলের গন্ধ মেখে হাওয়া ছুঁয়ে যায় অলস গাল,
আকাশজোড়া নীলের চিঠি রোদ্দুর তার তুলেছে পাল।
তালপুকুরে ঢেউয়ের বুকে রাজহংসী খেলে,
রঙে ভরা বাসন্তিকা রঙিন ওড়না মেলে।
তারই ছোঁয়ায় গোপন কুঁড়ি খুলে দেয় সব দ্বার,
মনের ভিতর জমে থাকা দুঃখ উড়ে পার।
রঙিন আবির ঝরে পড়ে পথের ধুলোর মাঝে,
হাসির মালা গেঁথে সে যায় হৃদয় ঘরের কাছে।
ও বসন্তিকা, তোরই টানে নতুন দিনের গান,
সব পুরনো বিষাদ ভুলে জাগুক সকল প্রাণ।।"
শীতের জড়তা কাটিয়ে প্রকৃতি যখন নবীন রঙে, নবীন সুরে নিজেকে সাজিয়ে
তোলে, তখনই আসে বসন্ত—পুনর্জাগরণের ঋতু। সেই নবজাগরণেরই প্রতীক হয়ে
বর্ণে বর্ণে-র তৃতীয় বর্ষের প্রথম সংখ্যা “বাসন্তিকা” আপনাদের হাতে তুলে
দিতে পেরে আমরা অপরিসীম আনন্দিত।
তিন বছরের এই যাত্রা আমাদের কাছে শুধুই সময়ের পরিমাপ নয়, বরং এক অটুট
বিশ্বাসের গল্প—ভাষার প্রতি, সাহিত্যের প্রতি, এবং আপনাদের ভালোবাসার
প্রতি। পাঠক, লেখক, এবং সহযোগীদের একত্রে গড়ে তোলা এই মঞ্চ আজ আরও
পরিণত, আরও সমৃদ্ধ। আপনাদের প্রতিটি লেখা, প্রতিটি প্রতিক্রিয়া, প্রতিটি
সান্নিধ্য আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা।
“বাসন্তিকা” সংখ্যায় আমরা চেষ্টা করেছি বসন্তের বহুরূপী আবেগকে ধারণ
করতে—কখনও প্রেম, কখনও প্রকৃতি, কখনও নতুন স্বপ্নের আহ্বান, আবার কখনও
জীবনের অন্তর্লীন বেদনা ও আশার মেলবন্ধন। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও
অন্যান্য রচনার মধ্য দিয়ে এই সংখ্যাটি যেন হয়ে উঠুক এক রঙিন বাগান,
যেখানে প্রতিটি পাঠক খুঁজে পাবেন নিজের মতো করে কিছু অনুভব, কিছু
উপলব্ধি।
ডিজিটাল এই যুগে ই-পত্রিকার পথচলা যেমন সহজ, তেমনি চ্যালেঞ্জে ভরা। তবু
আমরা বিশ্বাস করি—শব্দের শক্তি, সৃষ্টির আনন্দ এবং মননের স্বাধীনতা কখনও
থেমে থাকে না। বর্ণে বর্ণে সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়—নতুন
লেখককে সুযোগ দিয়ে, নতুন ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে।
এই বসন্তে আমাদের কামনা—সৃজনশীলতা আরও প্রস্ফুটিত হোক, শব্দেরা আরও মুক্ত
হোক, আর আমাদের এই সাহিত্যযাত্রা আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আরও বহু দূর এগিয়ে
যাক।
সবশেষে, সকল পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও
বাসন্তী অভিনন্দন এবং বাংলা নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা।
নমস্কারান্তে —
অনিন্দিতা গুড়িয়া,
সম্পাদক, নিউ-দিল্লি
প্রসেনজিৎ দাস,
যুগ্ম-সম্পাদক, পশ্চিম মেদিনীপুর
বর্ণে বর্ণে- বাংলা ই পত্রিকা ৩য় বৎসর, ১ম সংখ্যা
বাসন্তিকা ১৪৩২,/ জানুয়ারি ২০২৬