উইন্টার সেরিনেড

কৌশিক সেন,

নিউ-দিল্লি

-১-
বাক্সে বিছানো উড়নতুবড়ির সকাল।
ছোট ছোট নুন দানিতে ভিড় জমায় প্রশ্নবোধক চিহ্নেরা।
মাকড়সার তন্তুতে ঝলমল করে ওঠে সুভাষিতাবলি।
সূর্যঘড়ি ছায়া ফেলে সুদূর পশ্চিমে।
বিবর্ণতা মুছে ফেলে কেউ,
যেন মখমল বিছিয়ে দেওয়া অলৌকিক ফজরে।

-২-
তোমাকে বলেছিলাম, খুদকুরোর সংকীর্তন,
মৃগনাভি থেকে উৎসারিত সূর্যতপা গানের স্বরলিপি।
যেসব পাখিরা রাত থাকতেই উঠে হেঁসেলের কাজ সেরে উড়ে যায় দিকচক্রবালে,
তাদেরই জন্য তোলা থাক সুললিত ভৈরবী।

-৩-
টেবল নাইফে তুলে রাখা পাটভাঙা রোদ্দুর।
ব্রেড টোস্টে ক্রাসড গোলমরিচ।
আহা, কুসুম কুসুম সানরাইজ!
ঘনায়মান ক্যাপুচিনোয় দুমুখো আহ্লাদ।
মেঘের দেশ থেকে রাতচরা ম্যানিকুইনরা
টুপটাপ ঢুকে পড়ে বেডসাইড ব্যালকনিতে।

-৪-
সে এক আলোর জন্নত!
রেশমী চুনরীর গা বেয়ে পিছলে পড়ে বালিঘড়ির লম্‌হা।
সলমাজরির কিনারায় খুশির লহর।
পাগলা ঝোরার বদন থেকে নেমে আসে অকুতোভয় লব্জ়।
নিগাহে নাশা চড়িয়ে উড়ে যায় পরদেশী চিড়িয়ারা।

-৫-
তোমাকে শুনিয়েছিলাম মাঘ-কুয়াশার বেদনাগাথা,
পিরানহায় শালুকফুল গেঁথে রাখা অশ্রুত কোমলগান্ধার।
গাঁদাফুলের পাঁপড়িতে শ্রীপঞ্চমীধৈবত।
ঝুমকোলতার বাঘবন্দীতে মেতে ওঠে দূর গাঁয়ের উমনো, ঝুমনো।

-৬-
এখনও শেষ হয়নি কিছুই।
মল রোডের কুয়াশায় ঘনীভূত হয় হয় অবেলার ট্যুরিস্টরা।
জলাশয়ে বেবীপিঙ্ক ফ্লেমিংগো, ঝোপঝাড়ে অব্যক্ত অর্কিড।
ঠোঁটে ঠোঁট রাখে শরবিদ্ধ কাপল।
ও ব্যাধ, এসো, এই শীতার্ত বেদনায় অলৌকিক হট চকলেট পান করি!