ইউরিক অ্যাসিড : নীরব বিপদের বিরুদ্ধে সচেতনতা

মনিকা পুরকাইত,

ডায়মন্ড হারবার


বর্তমান সময়ে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক চাপের কারণে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের শরীরে পিউরিন নামক উপাদান ভাঙার ফলে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। সাধারণত কিডনি এই অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু কোনো কারণে যদি এটি শরীরে বেশি পরিমাণে জমে যায়, তখন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে প্রথমেই জয়েন্টে ব্যথা, বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল, হাঁটু বা গোড়ালিতে ফোলা ও তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হতে পারে। অনেক সময় এটি গাউট রোগের কারণ হয়। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত লাল মাংস, সামুদ্রিক মাছ, ফাস্টফুড, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত প্রোটিনজাত খাবার ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, স্থূলতা ও অনিয়মিত জীবনযাপনও এর অন্যতম কারণ।

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল খাওয়া খুব জরুরি। সবুজ শাকসবজি, ফলমূল এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা করানো দরকার।

স্বাস্থ্যই সম্পদ। তাই সামান্য অসতর্কতা যেন বড় রোগের কারণ না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখলে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব।