তোমার আমার বসন্ত

উজ্জ্বল দাস,

কলকাতা

যতবার তুমি কাছে আসো ততবার রঙিন করে দিয়ে যাও।
কেন জানি না,
আমার উন্মুক্ত পিঠে তোমার অঙ্গুলি সঞ্চালন-
আকণ্ঠ সুরা পান করার মতোই নেশাতুর।
অর্ধনিমীলিত চোখ সে পানীয় গ্রহণ করে নিরন্তর।
বাকরোহিত করে দেয় সে স্পর্শ,
গভীর ক্ষতয় যেন গোপন অভিযোজন,
আবদারে আবদারে চুমুক দেওয়ার অফুরন্ত উল্লাস।
ক্রমশ প্রশ্রয় দিতে থাকে।
আচ্ছন্ন করে রাখে আদুরে দুর্বলতা।
উস্কে দিয়ে যায় এক নতুন বসন্তের শীতল শিহরন।

শুনতে পাচ্ছো !
যতবার তুমি কাছে আসো ততবার রঙিন করে দিয়ে যাও,
লাল, নীল বাদুরে রঙের সে এক স্বর্গীয় নির্যাস।
সারা শরীর জুড়ে এঁকে দিয়ে যাও-
তোমার রংবেরঙের দুধে আলতার ছোপ।
আমি আঁকাবাঁকা পথে তোমাকে ভেবে চলি–
জ্বলজ্বল করে উঠা নেত্রদ্বয়–
নিষ্পলক, অকুততোভয়, নির্লজ্জ করে তোলে আমায়।
তুমিইবা কম যাও কিসে !
উষ্ণতা লুকিয়ে আমি উন্মত্ত তোমার বিষে।
আষ্টেপৃষ্টে শীতলতা থেকে রক্ষা করার সে দায়তো তোমারই।

এবার না-হয় একটু স্রোতের বিপরীতে হাঁটতে দাও প্রিয়–
নিঃশ্বাসের এ জোড়ালো শব্দ পৃথিবীর ঘুম না-ভাঙিয়ে দেয়।
বলতে দ্বিধা নেই…
রোমান্স্ ওকার্ড্ বিটুইন্ টু স্টুপিড্।
এ বোধহয় আমার কথা নয়।
এ কথা তোমার–আমার–সবার।
শুনতে পাচ্ছো!

যতবার তুমি কাছে আসো ততবার রঙিন করে দিয়ে যাও।
হাজার বসন্ত পেরিয়েও যেন এ ছোঁয়া আমারই থাকে।
সূর্য ওঠা ভোর, কিম্বা গোধূলির মৃদু আলো-
অথবা লিকার চায়ের সাথে এ বসন্ত আমারই থাক।