গরমে ও বর্ষায় ছোট্ট শিশুর শরীরের যত্ন

সুচিত্র রঞ্জন পুরকাইত,

ডায়মন্ড হারবার


গরম ও বর্ষাকাল—এই দুই ঋতুতেই ছোট্ট শিশুদের শরীর খুব সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। অতিরিক্ত ঘাম, গরমে জলশূন্যতা বা ডিহাইট্রেশন, আবার বর্ষায় সর্দি-কাশি, জ্বর, পেটের সংক্রমণ—সব মিলিয়ে অভিভাবকদের একটু বাড়তি সতর্ক থাকতেই হয়। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে শিশুকে অনেকটাই সুস্থ ও স্বস্তিতে রাখা সম্ভব।

গরমকালে শিশুর যত্ন
পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার দিন
শিশুর শরীরে যাতে জলের অভাব না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের বারবার দুধ খাওয়ান।
বড়ো শিশুদের ডাবের জল, লেবুর শরবত, ফলের রস বা পর্যাপ্ত জল দিন।

হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরান
সুতি কাপড়ের ঢিলেঢালা পোশাক শিশুকে আরাম দেয় এবং ঘাম কমায়। খুব টাইট বা মোটা জামা এড়িয়ে চলুন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন
গরমে ঘাম থেকে ঘামাচি ও চুলকানি হতে পারে। তাই—
দিনে অন্তত একবার স্নান করান
শরীর শুকনো রাখুন
পরিষ্কার তোয়ালে ও জামা ব্যবহার করুন

হালকা ও পুষ্টিকর খাবার দিন
তেল-মশলাযুক্ত ভারী খাবারের বদলে ফল, শাকসবজি, দই, হালকা ভাত বা খিচুড়ি দিন।

রোদ এড়িয়ে চলুন
দুপুরের কড়া রোদে শিশুকে বাইরে না নিয়ে যাওয়াই ভালো। বাইরে গেলে মাথায় টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন।

বর্ষাকালে শিশুর যত্ন
ভেজা কাপড় দ্রুত বদলে দিন
বৃষ্টিতে ভিজলে সঙ্গে সঙ্গে শুকনো কাপড় পরিয়ে দিন, না হলে ঠান্ডা লাগতে পারে।

মশার হাত থেকে রক্ষা করুন
বর্ষায় মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই—
মশারি ব্যবহার করুন
ঘরের আশেপাশে জল জমতে দেবেন না

গরম ও টাটকা খাবার দিন
বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন। গরম ও সদ্য রান্না করা খাবার খাওয়ান যাতে পেটের সংক্রমণ না হয়।

হাত ধোয়ার অভ্যাস করান
খাওয়ার আগে ও বাইরে থেকে এলে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ানো খুব জরুরি।

অসুস্থতার লক্ষণ দেখলে অবহেলা নয়
জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত কাশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কিছু অতিরিক্ত সতর্কতা
শিশুর ঘর পরিষ্কার ও বাতাস চলাচলযোগ্য রাখুন
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
শিশুকে সবসময় হাসিখুশি ও স্বস্তিতে রাখার চেষ্টা করুন
ঋতু পরিবর্তনের সময় ছোট্ট শিশুদের একটু বেশি যত্ন ও ভালোবাসা প্রয়োজন। সচেতন থাকলে গরম ও বর্ষা—দুই ঋতুতেই শিশুকে সুস্থ ও আনন্দে রাখা সম্ভব।