স্মৃতির সরণি বেয়ে ( কাদার ভেলায় চেপে )

বাপ্পাদিত্য গুড়িয়া,

নিউ-দিল্লি

কিছু কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো নিজের চোখে দেখা নয়, অথচ নিজের জীবনেরই অংশ হয়ে থাকে। ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া সেইসব ঘটনা আমাদের মনে থাকে টুকরো টুকরো ছবির মতো। কোথাও একটা মুখ বা ঝাপসা কোন ছবি, কোথাও একটা গন্ধ, কোথাও একটা ভয়, আবার কোথাও নিছক আনন্দ।
এই গল্পটাও তেমনই।
আমার তখন বয়স বছর চারেক হবে। দিদি আমার থেকে সাড়ে তিন বছরের বড়, অর্থাৎ তার বয়স সাড়ে ছয় কি সাত। আর তখনও আমাদের ছোট বোন পৃথিবীর আলো দেখেনি।
সেই বয়সে জীবনের ঘটনাগুলো মনে থাকার কথা নয়। আমার নিজের স্মৃতির ঝুলিতে তাই এই ঘটনারও কয়েকটি টুকরো ছবি আছে মাত্র।
বাবার হাতে জীবনে একবার মার খাওয়া, খুব জ্বর আসা, আর কাদা মেখে কোথাও খেলছিলাম - ব্যস এইটুকুই।
বাকি গল্পটা শুনেছি মা-বাবা আর দিদির মুখে। এতবার শুনেছি যে, এখন মনে হয় যেন ঘটনাটা আমি নিজেই চোখের সামনে দেখেছিলাম!

দিদি অবশ্য আমার কাছে শুধু দিদি ছিল না, ছিল আমার দ্বিতীয় মা। আমাকে শাসন করত, আবার আগলেও রাখত। আমার দুষ্টুমিতে রাগ করত, আবার কেউ আমাকে কিছু বললে সবার আগে আমার ঢাল হয়ে দাঁড়াত। ছোট্ট বয়সের সেই দিদিটাই ছিল আমার পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

খুব সম্ভব সালটা ছিল ১৯৮২ কিংবা ১৯৮৩। সেপ্টেম্বরের শেষ দিক। পুজোর ঠিক আগের সময়। সম্ভবত দিনটা ছিল মহালয়া।
তখনকার দিল্লি আজকের দিল্লির মতো ছিল না। এত গাড়িঘোড়া, এত ভিড় ভাট্টা, এত মেট্রোর জাল, কিছুই ছিল না। পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে একটা অদ্ভুত আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। বাড়ির বাচ্চারা কে কার বাড়িতে খেলছে, কে কার সঙ্গে বেরিয়েছে এসব নিয়ে আজকের মতো এত দুশ্চিন্তাও ছিল না।

সেদিন বাবা ছুটি পেয়েছিলেন। আমাদের জন্য পুজোর নতুন জামাকাপড় কিনতে যাবেন সরোজিনী নগর মার্কেটে।
আমাদের মা নিজেও সবসময় খুব পরিপাটি থাকতেন। আর তাঁর দুই সন্তানকেও তিনি একেবারে টিপটপ করে রাখতে ভালোবাসতেন। সেদিনও তার ব্যতিক্রম হল না।
দুপুরে পেট ভরে খাবার খাইয়ে মা আমাদের দুজনকে মহালয়ার নতুন জামাকাপড় পরিয়ে দিলেন। তারপর চোখে কাজল, কপালে টিপ, মুখে গলায় পাউডার লাগিয়ে, চুল আঁচড়ে দুই ভাইবোনকে এমন সাজিয়ে দিলেন যে আমরা যেন পাড়ার পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য তৈরি!

তারপর মা-বাপি আমাদের বাড়িওয়ালার জিম্মায় রেখে বাজারের উদ্দেশে বেরিয়ে গেলেন। নিজামুদ্দিন থেকে সরোজিনী নগর যাওয়ার জন্য তখন বাসই ছিল প্রধান ভরসা। আজকের মতো মেট্রোতে উঠে এক ঝটকায় পৌঁছে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। বাস ঘুরতে ঘুরতে, থামতে থামতে, যেতে যেতে বেশ খানিকটা সময়ই লাগত।
সরোজনী নগরের মার্কেট আমাদের সরায় কালেখাঁর বাড়ি থেকে অনেকটা দূর আর খুব ভিড় হতো সেই বাসে। আমাদের ছোট্ট দুই ভাই বোনের দুর্ভোগ কম করতেই বাবা-মায়ের এই সিদ্ধান্ত।
তবে তখন এসব খুব স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। আমাদের বাড়িওয়ালারও দুই ছেলে-মেয়ে ছিল। তাদের সঙ্গে আমাদের বেশ ভাব। খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ, ঝগড়াঝাঁটি, সব মিলিয়ে তারা ছিল আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তাই আমাদের নিয়ে বিশেষ চিন্তার কিছু আছে বলে মা-বাবার মনে হয়নি।
কিন্তু তাঁরা জানতেন না, তাঁদের এই নিশ্চিন্ত দুপুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একেবারে দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে চলেছে!

মা-বাবা বেরোনোর কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামল।
আর আমরা? আমরা তো বৃষ্টির জন্যই যেন অপেক্ষা করছিলাম!
বাড়িওয়ালার ছেলেমেয়েদের পেছনে পেছনে আমি আর দিদিও বেরিয়ে পড়লাম।
আমাদের মহল্লার কাছেই ছিল একটা বড় স্কুল আর সাথেই ছিল স্কুলের একটা বিশাল মাঠ। পাড়ার সব বাচ্চারাই সেখানে খেলত। বৃষ্টিতে সেই মাঠ তখন একেবারে জল-কাদায় মাখামাখি। পাড়ার যত বাচ্চা ছিল, সবাই সেখানে হাজির। কেউ কাদায় লাফাচ্ছে, কেউ জল ছিটোচ্ছে, কেউ পিছলে পড়ছে, কেউ কাদা দিয়ে একে অপরকে মাখিয়ে দিচ্ছে।
আমরাও দুই ভাই বোন সেই মহাযজ্ঞে যোগ দিলাম।
মা-বাবা বেরোনোর আগে আমাদের কে কী সুন্দর করে সাজিয়ে রেখে গিয়েছিলেন!
একসময় আমাদের পরনে থাকা নতুন জামাকাপড়ের আর কোনও অস্তিত্ব রইল না। পাউডার? ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে আগেই।
টিপ ঘেঁটে ঘ। চোখের কাজল? সে তো বৃষ্টির জলে এমনভাবে মাখামাখি হয়ে চোখের চারপাশে ধেবড়ে গেছে যে আমাদের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল আমরা দুজন যেনো সদ্য শ্মশান থেকে উঠে এসেছি!
চুলের অবস্থা আরও করুণ। কাদা লেগে চুলগুলো সব শিব ঠাকুরের জটার মতো হয়ে গেছে। জামাকাপড় কাদায় মাখামাখি।
জুতো পায়ে আছে কি নেই সে বিষয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথাই ছিল না। আমরা তখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দুই শিশু।
এদিকে সরোজিনী নগর থেকে বাজার করে ফিরতে ফিরতে মা বাপির প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল।
মা-বাপি বাড়িতে ঢুকেই দেখলেন তাদের দুই সন্তান বাড়িতে নেই!
প্রথমে তাঁরা ভাবলেন, হয়তো পাশের বাড়িতে খেলছে।
কিন্তু নাহ্ সেখানে নেই।
আরেক বাড়িতে খোঁজ করা হলো। সেখানেও নেই।
বাড়িওয়ালার কাছে জিজ্ঞেস করে জানা গেল, আমরা নাকি মাঠের দিকে গিয়েছিলাম।
তারপর শুরু হল খোঁজাখুঁজি।
একসময় সেই খোঁজাখুঁজি উদ্বেগে পরিণত হল। ক্রমশ উদ্বেগ ভয়ে আর ভয় একসময় আতঙ্কে। মা কেঁদে ফেলেছিলেন।
বাপি পাগলের মতো আশেপাশের গলি, বাড়ি, রাস্তা সব জায়গায় খুঁজতে শুরু করলেন।
স্কুলের মাঠের পাশ দিয়েও তাঁরা কয়েকবার গিয়েছিলেন।
কিন্তু সেখানে যে কাদামাখা, ভুতুড়ে চেহারার একদল বাচ্চা খেলছিল, তাদের মধ্যে আমাদের দুজনকে আলাদা করে চেনার উপায়ই ছিল না! আসলে তারা ভাবতেই পারেননি যে আমার অমন শান্ত সৌম্য দিদি ও কাদার মধ্যে খেলতে পারে বা আমাকে কাদা ঘাঁটার অনুমতি দিতে পারে।

আর আমরা? দিব্যি জলকাদা মেখে আনন্দে খেলা করছি। কখন যে এতোটা সময় পেরিয়ে গেছে আর কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে সে খেয়ালই নেই।
আমরা খেলায় এমন মগ্ন যে বাবা-মা আমাদের খুঁজতে এসে পাশ দিয়ে চলে গেছে টেরও পাইনি!
এরপর খোঁজ গড়াল আরও দূরে।
এমনকি আমাদের কে খুঁজতে খুঁজতে রেললাইনের দিকেও চলে গেলেন তাঁরা।
ভেবেছিলেন সম্ভবত আমরা খেলতে খেলতে, কিংবা দেরি দেখে তাঁদেরকে খুঁজতে খুঁজতে, সেই দিকেই চলে গিয়েছি।

এক এক মিনিট যেন তাদের কাছে এক এক ঘন্টার বরাবর মনে হচ্ছিল। অনেক ক্ষণ খোঁজা খুঁজির পর মা-বাপি যখন প্রায় ভেঙে পড়েছেন, তখন তাঁরা ঠিক করলেন বাড়িওয়ালাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যাবেন।
সেই সময়ই ঘটল অবিশ্বাস্য ঘটনাটি।
বাড়িতে ফেরার পথে গেটের মুখের কাছেই হঠাৎ মা বাপির সাথে মুখোমুখি দেখা হয়ে গেল আমাদের!
অনেকক্ষণ পর মা বাপিকে দেখে আমরা তো আনন্দে আত্মহারা! দৌড়ে গিয়ে মা-বাপিকে জড়িয়ে ধরলাম। কিন্তু তখন যদি আয়না সামনে থাকত, নিজেরাই নিজেদের দেখে হয়তো ভয়ে পালিয়ে যেতাম!
আমার এক পায়ের জুতো কোথায় হারিয়ে গেছে, তার কোনও হদিস নেই।
দিদির একটা হাওয়াই চটি ছিঁড়ে গেছে। আর অন্য চটিটা দিদি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আমাদের সুন্দর নতুন জামাকাপড় কাদায় এমনভাবে মাখামাখি যে নতুন জামার সঙ্গে কাদার সম্পর্ক কোথায় শেষ আর আমাদের শরীর কোথায় শুরু তা বোঝার উপায় নেই।
চুল কাদা মেখে জট পাকানো। মুখ কাদায় ভরা।
চোখের কাজল গলে গিয়ে গোটা মুখে মাখামাখি হয়ে ভয়ংকর চেহারা।
দুজনকে দেখে মনে হচ্ছিল, মহালয়ার দিন দেবীপক্ষের সূচনা নয় দুই ভূতের আবির্ভাব ঘটেছে!
মা-বাবার তখন কী অবস্থা!
একদিকে এতক্ষণ ধরে হারিয়ে যাওয়া সন্তান ফিরে পাওয়ার আনন্দ। অন্যদিকে চোখের সামনে সেই দুই সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা পুতুলের বদলে দাঁড়িয়ে আছে দুটো কাদামাখা ভূত!
বাবার মাথায় তখন রাগ চড়ে গেছে। সারাদিনের দুশ্চিন্তা, আতঙ্ক, ছুটোছুটি, সব মিলিয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বাপি তখন কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। শেষে বাপির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল।
আর সেই দিনই ঘটল আমার জীবনের এক ঐতিহাসিক ঘটনা।
এতক্ষণ ধরে যে মানুষটা সন্তানদের খুঁজতে খুঁজতে আতঙ্কে প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন, সেই মানুষটাই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে রাগে ফেটে পড়লেন।
আর তারপর -
ধুম! ধাম! চড় থাপ্পড়ের বন্যা।
আমাদের জীবনে বাপির হাতে প্রথম মার খাওয়া। আর আশ্চর্যের ব্যাপার, সেটাই ছিল শেষ মারও।
মা আর বাড়িওয়ালা তাড়াতাড়ি আমাদের দুজনকে বাপির হাত থেকে উদ্ধার করলেন।

তারপর শুরু হল অন্য অধ্যায়। মারের ব্যথায় আমরা যতো কাঁদছি আর আমাদেরকে মেরে আত্ম শ্লাঘায় বাপিও ততোধিক কাঁদছে।
রাতে আমাদের ভাইবোনের দুজনেরই জ্বর এল।
সারাবেলা বৃষ্টিতে ভেজা, কাদায় গড়াগড়ি, তার ওপর সেই সময় সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে দিল্লিতে বেশ ভালোই ঠান্ডা পড়ত, সব মিলিয়ে দুজনেই কাবু।
পুজোর আনন্দ তখন মাথায় উঠেছে। বাপি অফিস থেকে পুরো এক সপ্তাহ ছুটি নিয়ে নিজের নাওয়া-খাওয়া, বিশ্রাম ঘুম সব ভুলে আমাদের দুজনের পাশে বসে রইলেন।
জ্বর মাপছে। মাথায় জল পট্টি দিচ্ছে। জল খাওয়াচ্ছে। ওষুধ দিচ্ছে। বারবার আমাদের কপালে হাত রাখছেন। আমরা যা না কষ্ট পেয়েছি বাপি তার থেকেও অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছে।
আর তারপর বাপি নাকি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন-
“জীবনে আর কোনওদিন বাচ্চাদের গায়ে হাত দেব না।”
সেই প্রতিজ্ঞা তিনি আমৃত্যু রেখেছিলেন।
এরপরে কখনো আমরা দুষ্টুমি করলে মায়ের হাতে মার খেয়েছি অনেকবার। কিন্তু সত্যিই তারপর থেকে কোন দিনও বাপি আমাদের গায়ে হাত তোলেননি।

আজ এত বছর পরে ফিরে তাকালে মনে হয়, সেদিনের সেই একবারের মার আসলে শাস্তির চেয়ে অনেক বেশি ছিল একজন বাবার অসহায় ভালোবাসার প্রকাশ। কয়েক ঘণ্টা ধরে সন্তানকে না পেয়ে যে আতঙ্ক একজন বাবার বুককে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল, সেই আতঙ্কই হয়তো মুহূর্তের রাগ হয়ে বেরিয়ে এসেছিল।

আজ এত বছর পরে দাঁড়িয়ে যখন সেই দিনের কথা ভাবি, তখন মনে হয় ঘটনাটা আসলে শুধু ছোটবেলার একটা দুষ্টুমির গল্প বা আমাদের মার খাওয়া গল্প নয়।
এটা আমাদের বাবা-মায়ের অপত্য স্নেহের গল্প।
এটা আমার আর দিদির শৈশবের গল্প।
এটা সেই সময়ের গল্প, যখন পাড়ার বাড়িওয়ালার সন্তানরাও আপনজনের মতো ছিল, যখন একটা বৃষ্টিভেজা মাঠই ছিল আমাদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আনন্দের জায়গা, আর যখন বাবা-মায়ের কাছে সন্তান চোখের আড়াল হওয়া মানেই ছিল পৃথিবীটা যেন হঠাৎ করেই অন্ধকার হয়ে যাওয়া।

আজ মা নেই। বাপিও নেই।
আর আমার সেই দ্বিতীয় মা আমার দিদিও প্রায় পাঁচ বছর হল করোনার নিষ্ঠুর মরণ কামড়ে এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছে।
তবু সেই মহালয়ার দিনটা যেন কোথাও হারিয়ে যায়নি।
মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করলে আজও দেখতে পাই -
একটা বড় স্কুলের মাঠ। ঝুম বৃষ্টি। জলে ভরা কাদা।
আর সেই কাদার মধ্যে ছোট্ট দুটি ভাই বোন, একজনের এক পায়ে জুতো নেই, আর অন্যজনের হাতে ছেঁড়া হাওয়াই চটি!
দুজনেই কাদায় মাখামাখি হয়ে খিলখিল করে হাসছে।
আর দূরে কোথাও এক মা আর এক বাবা তাঁদের খুঁজে খুজে পাগলের মতো ছুটে বেড়াচ্ছেন।
সত্যিই, ছোটবেলার দিনগুলো কী আশ্চর্য সুন্দর ছিল!
তখন কাদা ছিল আনন্দ। বৃষ্টি ছিল উৎসব। একটা ছেঁড়া চটি ছিল খেলনার মতো। আর বাপির এক চড়ের মধ্যেও লুকিয়ে থাকত পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা।
আজ এত বছর পরে সেইসব মানুষগুলোর কেউ পাশে নেই।
শুধু স্মৃতিগুলো আছে।
আর আছে সেই কাদা-মাখা দুই ভূত- আমি আর আমার দিদি।
যারা সেদিন বাবা-মাকে প্রায় পাগল করে দিয়েছিল, আর নিজেরাও জানত না যে তাদের সেই ছোট্ট দুষ্টুমির গল্প একদিন জীবনের সবচেয়ে আদরের স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকবে।