শিবসমুদ্রম
অমৃতা ব্যানার্জী,
কলকাতা
বয়ে চলেছে খরস্রোতা নদী। পথে আঘাত পেয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে
ছিটিয়ে পড়ছে চতুর্দিকে। আঘাত পেয়ে বেড়ে চলেছে তার আক্রোশ। গতিবেগ
বাড়িয়ে ভূখণ্ডে আছড়ে পড়ছে। তার সেই আক্রোশকে বন্দী করে নিজের
প্রয়োজনে ব্যবহার করার নিরন্তর ও সফল প্রয়াস করছে মানব জাতি।
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই দৃশ্য দেখা যায়। তবে এমন দৃশ্য তো বারেবারে
দেখলেও আশ মেটে না। তাই আরেকবার চাক্ষুষ করার লোভে সেইবার আমাদের গন্তব্য
হয়েছিল শিবসমুদ্রম ফলস। মহীশূর শহর থেকে প্রায় ৮০কিমি পূর্বে অবস্থিত
এই ওয়াটার ফলস। সাধারণত এই জলপ্রপাত মহীশূর ভ্রমণের মধ্যে পড়ে না।
আমাকে জেনাব গুগল সহায়তা করেছিলেন।
কর্ণাটক রাজ্যের চমারাজানগর জেলায় অবস্থিত এই জলপ্রপাত আসলে কাবেরী নদীর
অংশ। দ্রাবিড়িয়ান উপত্যকায় খরস্রোতা কাবেরী নদী আঘাত পেয়ে দ্বিধা
বিভক্ত হয়ে ভারাচুক্কি ও গগনচুক্কি জলপ্রপাতের রূপ ধারণ করেছে। এই দুই
মিলিত প্রবাহের নাম শিবসমুদ্রম। এই জলপ্রপাতকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। মহীশূরের দিওয়ান পরিবার এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
নির্মাণ করে। বর্তমানে এটি কর্ণাটক পাওয়ার কর্পোরেশনের অধীনস্থ।
আমরা সকাল আটটা নাগাদ রওনা হয়েছিলাম। পথ অত্যন্ত মনোরম। দু'ধারে গ্রাম্য
পরিবেশ। কলাগাছের সমাহার। মাঝেমধ্যে দন্ডায়মান পশ্চিমঘাট পর্বতমালা।
মাঝপথে অবশ্য একটি অদ্ভুত জায়গায় পৌঁছে ছিলাম। সেইটা আমার ভুল। আমার
নয় গুগলের ভুল বলা ভালো। গুগল বলেছিল পথে তালাকড় নামক একটি দর্শনীয়
স্থান আছে। তা আমরাও ড্রাইভারকে বলে সেইখানে পৌঁছলাম। দর্শনীয় বলতে একটি
শিব মন্দির অবশ্যই আছে। কিন্তু সেই মন্দির পর্যন্ত পৌঁছাতে বহুক্ষণ বালি
ঢালা পথে হাঁটতে হয়। বালির পরিমাণ দেখে মনে হয়েছিল মরুভূমির আত্মীয়।
যাই হোক, গিয়েছি যখন দর্শন করলাম।
দর্শন করে পাওয়ার কর্পোরেশনের গেট দিয়ে শিবসমুদ্রম দেখতে পৌঁছলাম।
দু'ধারে পাওয়ার কর্পোরেশনের স্টাফ কোয়ার্টার। ভিউ পয়েন্টে দাঁড়ালে
দেখা যায় খরস্রোতা কাবেরীর রূপ। আগে ভিউ পয়েন্ট থেকে নীচে নেমে রিভার
rafting করা যেত। কিন্তু কয়েকটি দুর্ঘটনার পরে নীচে নামার গেট বন্ধ করা
হয়েছে। সামনেই পাওয়ার কর্পোরেশনের ভেজেটেরিয়ান ক্যান্টিন আছে। সেইখানে
আমরা লাঞ্চ করলাম।
একদম নিস্তব্ধ পরিবেশে দাঁড়িয়ে নদীর ভাষা উপভোগ করার জন্য একটি মনোরম
স্থান শিবসমুদ্রম। তবে ডিসেম্বর থেকে মার্চ না যাওয়াই ভালো। জল খুব কম
থাকে।