নারী স্বাধীনতা এবং সুভাষচন্দ্র বসু

বাপ্পাদিত্য গুড়িয়া,

নতুন দিল্লি

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে নারী স্বাধীনতার প্রশ্নটি শুধু সামাজিক সংস্কারের বিষয় ছিল না—তা ছিল জাতীয় মুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে যিনি বাস্তব সংগ্রামের ময়দানে সবচেয়ে সাহসী ও কার্যকর রূপ দিয়েছিলেন, তিনি হলেন সুভাষচন্দ্র বসু।

সুভাষচন্দ্রের কাছে নারী কখনও “দুর্বল” বা “সহযোগী মাত্র” নন—তিনি ছিলেন সমান যোদ্ধা, সমান নাগরিক। সেই সময়ে যখন নারীর ভূমিকা মূলত ঘরকেন্দ্রিক বলে ধরা হতো, তখন তিনি নারীদের হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। আজাদ হিন্দ ফৌজে গঠিত ঝাঁসির রানী বাহিনী ছিল এর এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত—যেখানে নারীরা সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার সুযোগ পান। এটি কেবল প্রতীকী নয়, ছিল বাস্তব ক্ষমতায়নের ঘোষণা।

সুভাষচন্দ্র বিশ্বাস করতেন—রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন, যদি সামাজিক স্বাধীনতা না আসে। আর সামাজিক স্বাধীনতার কেন্দ্রে রয়েছে নারী মুক্তি। তাঁর ভাষায়,

“যে জাতি তার নারীদের পিছনে ঠেলে রাখে, সে জাতি কখনও স্বাধীন হতে পারে না।”

এই চিন্তাধারা তাঁকে সময়ের চেয়ে বহু এগিয়ে রেখেছিল। তিনি নারীকে দেখেছিলেন জাতির শক্তি হিসেবে—মাতৃত্বের আবেগে নয়, নাগরিকের অধিকারে। নারী স্বাধীনতা তাঁর কাছে অনুগ্রহ নয়, অধিকার।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা নারী ক্ষমতায়নের কথা বলি, তখন সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নারী স্বাধীনতা মানে কেবল আইন বা সুযোগ নয়, বরং সম্মান, সমান অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।

সুভাষচন্দ্র বসু তাই শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার নায়ক নন—তিনি নারী স্বাধীনতারও এক অগ্রদূত।