সবুজ পাতা
চন্দ্রমা মুখার্জী,
সমর পল্লী, কলকাতা
টুটুল মা – বাবার সাথে একসপ্তাহের জন্য বেড়াতে গিয়েছিল। ওর একটা প্রিয়
বেলফুলের গাছ আছে। ওটাকে পাশের ফ্ল্যাটের বিল্টুর কাছে রেখে গিয়েছিল। আর
ওকে বলেছিল, রোজ ওতে জল দিতে। টুটুল ফিরে এসে দেখে, গাছটা ঝিমিয়ে পড়েছে,
ওর অর্ধেক পাতা শুকিয়ে গেছে।
টুটুল তো দেখেই কেঁদে উঠল, বিল্টুকে বলল – “তুই কেন জল দিসনি?” বিল্টুর
বাবা – মা দুজনেই সারাদিন অফিসে থাকে, ওদের অতো সময় বা শখ কোনটাই নেই।
বিল্টুও ভুলে গেছে। তবু ওদের যে দিদি কাজ করে, সে মনে করে দুদিন জল
দিয়েছে। তারপর কাজের তাড়াহুড়োয় তারও মনে ছিল না। তাই গাছটা শুকিয়ে
গেছে।
টুটুলের তো এতো মন খারাপ হল যে, ও বিল্টুর সঙ্গে আড়ি–ই করে দিল। তারপর
গাছটার পরিচর্যা করতে লাগল। কিন্তু গরমকালে সারাদিন রোদ পেয়ে আর জল না
পেয়ে গাছটা প্রায় আধমরা হয়ে গেছে। তাই তার সেরে উঠতে সময় লাগতে শুরু
করল।
বেশিরভাগ কুঁড়িই শুকিয়ে ঝরে গেছে। রোজ টুটুল বেশি – বেশি করে জল দিতে
লাগল। গাছটা আস্তে আস্তে সতেজ হতে শুরু করল। তারপর একদিন কুঁড়িও এলো।
কিন্তু আবার বর্ষার আগমনে গাছটা আবার ঝিমিয়ে পড়তে লাগল। কি হল, কিছুই
বুঝতে পারলো না টুটুল। ও ভাবল, বিল্টুর সাথে আড়ি করার জন্য এরকম হল?
তারপর বাবাকে জিজ্ঞাসা করল – “আমি তো রোজ এত – এত জল দিচ্ছি, গাছটা আবার
কিরকম মরা – মরা হয়ে যাচ্ছে। কেন?” বাবা বললেন – “শুধু বেশি জল দিলেই
হবে? জল, রোদ, আলো সব পরিমাণ মতো লাগবে তো। এখন বর্ষাকাল, রোদ কম, বৃষ্টি
বেশি। গাছ তো এমনিতেই জল পেয়ে যাচ্ছে। মাটিও আর্দ্র থাকছে। এখন তো রোজ জল
না দিলেও হবে। কিন্তু গরমে রোদের তাপে মাটি শুকিয়ে যায়। তাই রোজ জল দিতে
হয়। ওতে এখন কদিন বেশি জল দিও না। আগে ওর মাটি শুকোক।“
বাবার কথামতো জল দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিল টুটুল। কয়েকদিন পরেই সবুজ পাতা
আর সাদা কুঁড়িতে গাছটা ভরে উঠল। এখন প্রতিদিনই বেলফুল ফুটছে। টুটুল এখন
খুব খুশি। বিল্টুর সাথে ও আবার ভাব করে নিয়েছে। ও বুঝে গেছে, ঋতু
পরিবর্তনের সাথে সাথে গাছের পরিচর্যার পদ্ধতিও বদলে ফেলতে হয়। তবেই গাছ
দীর্ঘজীবী হয়।