রূপকথা গেঁয়ো দিন
অনিন্দিতা গুড়িয়া ,
নিউ-দিল্লি
অরুণ রাগে রাঙিয়ে ওঠা সকাল- দেখা যায় না অঘ্রাণ দিনশেষে,
পাতা ঝরার দিন ঘনিয়ে এলো, মলিন বরণ শীতের বুড়ি বেশে।
ঘন কুয়াশার চাদর ভেদে দেখো- স্তিমিত রোদ ওই দিয়েছে উঁকি,
সকাল হলো আটটা ন'টার ঘরে, রোদ পোহাবে ফুলকলি সব খুকি।
শিশির মোড়া মেঠো পথের বাঁকে- পথ মিশে যায় সবুজ কড়াই শাকে,
সিমের ভারায় দোদুল বেগুনি ফুল, সজনে ফুলে উঠোন ছেয়ে থাকে।
জলফড়িঙে আলপনা দেয় জলে, শুয়োপোকাটা গুটি পোকা হয়ে ঝোলে,
হালকা রোদে শুকায় বিউলিবড়ি- রসের হাঁড়ি খেজুর গাছের গলে।
ধান সিদ্ধ খেজুর রসে জাল- মিষ্টি গন্ধে ভোরের বাতাস মাতে,
বাহারি ফুলে বাগান ভরে আছে, প্রজাপতি বেড়ায় উড়ে তাতে।
আলু বেগুন শিম কপি ফেনা ভাতে- ধোঁয়া ওঠা নতুন চালের সুবাস-
বড়ি ভাজা গাওয়া ঘি এর সাথে- চড়িভাতির মজা এপাশ ওপাশ।
পানকৌড়ির বিরাম নেইকো মোটে, এই এত শীতে কেমনে জলে ডোবে!
দেখেছি অবাক অংক কষার ফাঁকে, সেই কবেকার পুরানো কথা হবে!
খালের জলে বুড়ো বটের ডালে- শীতের রোদ নকশি কাঁথা বোনে,
মনের ঘরের বন্ধ দুয়ার খুলে- মন উঁকি দেয় পৌষে হৃদয় কোণে।
দুপুরবেলা চুল শুকনোর আগেই- পড়ন্ত রোদ সন্ধ্যা নেমে আসে
ছেলেবেলার সেসব হীমেল দিন; আজও রঙিন স্মৃতির ক্যানভাসে।।