রঙ্গীন শুভেচ্ছা
চন্দ্রমা মুখার্জী,
সমর পল্লী, কলকাতা
রুমঝুম ক্লাস টুতে পড়ে। এর আগে প্রতিবছর বাড়িতে একা একাই দোল খেলেছে।
এবছর ওর স্কুলের বন্ধু, ঋতু ওকে দোল খেলতে নিমন্ত্রণ করেছে। ওদের বাড়ি
পাশের পাড়ায়। সকালে উঠে একটু খেয়েই ও বায়না শুরু করল ঋতুর বাড়ি যাওয়ার।
মা বলে দিলেন, ১১টা বাজলে বাবা নিয়ে আসবেন। সেই কথামতো ও ঋতুর বাড়ি গেল,
বাবা দিয়ে এলেন।
সেখানে খুব মজা করে ১১ঃ৩০টার সময় বাবার সাথে রুমঝুম বাড়ি ফিরে এলো। তারপর
মাকে গল্প শুরু করল। ঋতুদের ফ্ল্যাট বাড়ির সবাই মিলে খুব রং খেলে। নিজেরা
বাঁদুরে রং মাখে, রংবেলুন ছোঁড়ে আর নিচে রাস্তা দিয়ে কেউ গেলে ছাদ থেকে
বালতি ভরা রং ফেলে। রুমঝুমের নাকি খুব মজা লেগেছে। আবার কেউ রেগে গিয়ে
চেঁচালে বলে, বুরা না মানো, হোলি হ্যায়।
মা শুনে খুব রাগ করলেন। বললেন, ‘এইভাবে কেউ রং খেলে? ছি ছি, আর কোনদিন
তোমায় আমি ওখানে রং খেলতে পাঠাবো না। বড়দের গায়ে মাথায় ওপর থেকে তাদের
ইচ্ছার বিরুদ্ধে কখনো রং দিতে হয় না। তাদের পায়ে আবির ছুঁইয়ে প্রণাম করতে
হয়। চলো, স্নান সেরে খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে নাও। বিকেলে বড়দের পায়ে আবির দিয়ে
প্রণাম করবে। এটাই আসল রঙ্গীন শুভেচ্ছা।