মাতলা, ঠাকুরান নদীর পার বেয়ে বেয়ে (নলপুর, ধইচি ও ভগবতপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা)
গৌরাঙ্গ বন্দ্যোপাধ্যায় ,
হাওড়া
পূর্ববর্তী অংশটি পড়ার জন্য
লাইব্রেরি
বিভাগে দেখুন...
তৃতীয় পর্ব
ভগবতপুরের অস্থায়ী ঘাটে একরাত:
ধইচির কাজ শেষ হবার পরদিন আমরা সবাই পেটভরে পরোটা আলুভাজা খেয়ে সকাল দশটা
নাগাদ লঞ্চে উঠলাম। গন্তব্য ভগবতপুর। সেখানে নাকি বিশাল কুমির প্রকল্প
রয়েছে। মনে রাখা দরকার বর্তমানে ভগবতপুর একটি নামী পর্যটনস্থল। কিন্তু
বাইশ তেইশ বছর আগের ভগবতপুরে ছিল শুধুমাত্র বন দপ্তরের অফিস, কুমির
প্রকল্প, ডিয়ার পার্ক ও কচ্ছপ ব্রিডিং সেন্টার। সেখানকার কি পরিস্থিতি
ছিল আপনারা একটু পরেই জানবেন। ততক্ষণ ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন।
দুপুরে আসার পথে লঞ্চেই আমরা ভাত, ডাল, তরকারি ও পার্শে মাছের ঝাল দিয়ে
লাঞ্চ সারলাম। গাঙ্গুলি অবশ্য ডালের বদলে রাম (পানীয় RUM) মেখে ভাত খেল।
অবশেষে দুপুর দুটো নাগাদ আমরা পৌছালাম ভগবতপুর। এবারের পথে ম্যানগ্রোভ
ফরেস্ট ও সুন্দরী গাছের আধিক্য চোখে পড়ল। এছাড়া যাত্রাপথের বিবরণ একইরকম।
তবে এক্ষেত্রেই প্রথম আমাদের লঞ্চ একেবারে ঘাট অবধি চলে এল। লঞ্চ থেকে
নৌকায় নেমে আমাদের ঘাটে আসতে হল না। কংক্রিটের একটি নির্মীয়মান ঘাটের
একটা অংশ তখন সবে চালু হয়েছে ফরেস্ট অফিসের ব্যবহারের জন্য।
মালপত্র ও যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘাটে নেমে স্থানীয় ফরেস্ট অফিসের কর্মচারীর
(যিনি আমাদের নিতে এসেছেন) কাছে শুনি সেখান থেকে বন দপ্তরের অফিস প্রায়
দেড়-দু কিমি দূরের হাঁটাপথ। এর আগে নলপুর বা ধইচিতে ঘাট অস্থায়ী বা কাঠের
বলে আমাদের নামতে অসুবিধা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নামার পর তিন-চার মিনিটের
হাঁটাপথেই ছিল ফরেস্ট অফিস। তাই জিনিস বয়ে নিয়ে যাবার সমস্যা হয়নি।
কিন্তু এখানে যা বুঝলাম আমাদের প্রায় আধ ঘন্টা হেঁটে সেই ফরেস্ট অফিস
এলাকায় যেতে হবে। মাত্র চার ফুট চওড়া ইঁট বাঁধানো রাস্তা। তাই পাশাপাশি
দুজন হাঁটাও বেশ মুশকিল। ঐ ফরেস্ট অফিসের ভদ্রলোক কয়েকটি যন্ত্রপাতি নিয়ে
আমাদের পথপ্রদর্শক হলেন। আমরাও বাদবাকি যন্ত্রপাতি ও নিজেদের লাগেজ ঘাড়ে
ফেলে তাঁকে অনুসরণ করতে বাধ্য হলাম।
দু'পাশের গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে রাস্তা। দুপুরের রোদে শীতকাল বলে তত
কষ্ট হচ্ছিল না। তবে মিনিট পনের হাঁটার পর সবার হাত-ঘাড় টনটন করছিল বলে
মিনিট দশেক বিশ্রাম নেওয়া হল। শেষ অবধি পৌনে তিনটের পর আমরা পৌঁছালাম
ভগবতপুর ফরেস্ট অফিস। গোটা কমপ্লেক্সটাই দেখলাম কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে
ঘেরা। এর আগের দুটি স্থানে এইরকম দেখিনি। অফিসে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আমরা
যখন আমাদের নির্ধারিত বাসস্থানে গেলাম তখন দেখি অফিস থেকে ৫০ - ১০০ মিটার
দূরে চার-পাঁচটি কাঠের ঘর আমাদের থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে। সবকটি ঘরই
বিচ্ছিন্ন এবং তাদের মধ্যে ব্যবধান অন্তত ১৫-২০ ফুট। প্রতিটি ঘর মাটির
থেকে ছ'সাত ফুট খুঁটির উপর বিরাজমান। মেঝেতে কাঠের তক্তা পেতে এবং দেওয়াল
ও ছাদেও কাঠের তক্তা সেঁটে ঘরগুলি তৈরী।
ঐ এলাকায় যাবার পর থেকে একটা বিজাতীয় বুনো গন্ধ আমাদের সবার নাকে আসছিল।
আমরা ঘরে ঢুকে দেখি মেঝের নিচে কাঠের তক্তার ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে ঘরের
নিচে যেন সাপের ব্রিডিং হাউস। চার-পাঁচটি পূর্ণবয়স্ক ও অজস্র ছোটসাপ
কিলবিল করছে। আশেপাশে প্রচুর সাপের খোলস পড়ে রয়েছে। দেখেই গা শিরশির করে
উঠল, আতঙ্কে দমবন্ধ হবার দশা। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার - দূরতম (অন্তত ৪০
ফুট) প্রান্তের ঘরটির নিচে শঙ্খচূড়ের বাসা। বাকিগুলোতে কেউটে ও গোখরোর
বাসা। এসব দেখে তো আমাদের আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবার জোগাড়। এখানে থেকে কাজ
করব কি করে? বেঘোরে প্রাণটা যাবে তো! সঙ্গে সঙ্গে সবাই একমত হয়ে ফিরে
যাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের লাগেজ বয়ে আবার ব্যাক করলাম ফরেস্ট
অফিসে।
সেখানে গিয়ে যিনি ভারপ্রাপ্ত অফিসার ছিলেন তাঁকে বললাম, "আপনারা কি করে
আমাদের ওখানে থাকার কথা বলছেন! আপনারা থাকেন কোথায়?"
"আমরা তো এই ফরেস্ট অফিসেই থাকি। মাত্র ৪ জন স্টাফ। ৪ টি ক্যাম্প খাট ও
বালিশ বিছানা আছে। বাকিরা গ্রামে ফিরে যায়। আপনাদের জন্য তো ১০ খানা
ক্যাম্প খাট ও বালিশ বিছানা আলাদা করে আনিয়ে রেখেছি। ওখানে পৌঁছে দেব
এখনই। এই জঙ্গুলে এলাকায় এর থেকে ভাল ব্যবস্থা কি করে করব?"
"আপনাদের এটা তো পাকা বিল্ডিং। এখানে আশে পাশে সাপের ঠেকও তো চোখে পড়ছে
না। আমাদের কাঠের ঘরগুলির তলায় তো সাপের ব্রিডিং হাউস। আমাদের কেউ সাপের
কামড়ে মরলে তার দায়িত্ব কি আপনি নেবেন?"
"না, না, এখন শীতকাল। সাপগুলোকে খোঁচাখুঁচি না করলে ওরা আপনাদের কোন
সমস্যা করবে না।"
"না। শঙ্খচূড়ের বাসার উপরের কুটিরটায় আমরা হিস্ হিস্ শব্দ শুনেছি। একবার
কামড়ালে আমরা ছবি হয়ে যাব। আমরা এখানে থাকব না। কোন মতেই থাকব না। আপনি
এখনই আপনাদের কলকাতা অফিসে RT-তে (Radio Transmitter) যোগাযোগ করুন। আমরা
কথা বলে ফেরার ব্যবস্থা করব।"
তারপর দেড়-দু ঘন্টা সময় গেল RT-তে কথোপকথন সেরে ওনাদের বোঝাতে যে আমাদের
পক্ষে এখানে থাকা এক মুহূর্তও সম্ভব নয়। তারপর ওনারা রাজি হলেন আমাদের
ফেরানোর জন্য লঞ্চ পাঠাতে। আমরা যে লঞ্চে এসেছিলাম সেই লঞ্চ তখন অন্যদিকে
চলে গেছে। সেটিকে আর এখানে ফেরত আনা সম্ভব হল না। তবে শুনলাম নামখানা
থেকে অন্য একটি লঞ্চ আসবে। সেটির সারেং ও অন্যান্য কর্মচারীদের জোগাড় করে
ডিজেল ভরে এখানে আসতে আসতে সন্ধে পেরিয়ে রাত হয়ে যাবে। অগত্যা আমরা তাতেই
রাজি হলাম বাধ্য হয়ে।
ততক্ষণে ঘড়ির কাঁটা পাঁচটার ঘর অতিক্রম করেছে। আমরা আমাদের বেশ কিছু
ইনস্টলেশনের জিনিসপত্র ওদের অফিসে রেখে শুধু পার্সোনাল লাগেজ ও অফিসিয়াল
টুলকিট নিয়ে আবার ফিরে চললাম ভগবতপুর ঘাটের দিকে ঐ দেড়-দু কিমি রাস্তা
অতিক্রম করে। হা-ক্লান্ত শরীরে প্রাণের মায়ায় ঐ ঝুপসি জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে
ফরেস্ট অফিসের কর্মচারীর পিছনে হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল রাস্তা যেন আর
ফুরোবে না।
একটু পরেই দিনের আলো একদম কমে গেল। শেষের দিকে অন্তত দুটো টর্চ জ্বালাতে
হল। ঐ দুটো টর্চই উনি ফেরত নিয়ে চলে যাবেন, সৌভাগ্যবশত আমাদের দুটো টর্চ
ও একটা ইমার্জেন্সি লাইট আমরা জ্বালাইনি। কারণ সামনে দীর্ঘ রাত আমাদের ঐ
নির্মীয়মান ঘাটে অন্ধকারের মধ্যে বসে থাকতে হবে। তাই বুঝেশুনে খরচ না
করলে ব্যাটারি ডিসচার্জ হয়ে অন্ধকারের মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য হব।
আমরা ঘাটে পৌঁছলাম ছ'টা নাগাদ। আমরা যখন ফরেস্ট অফিস থেকে বেরিয়েছি তখন
শুনেছিলাম ছ'টা নাগাদ ঐ লঞ্চ নামখানা থেকে যাত্রা শুরু করবে আমাদের
ফিরিয়ে নিয়ে যাবার জন্য। সেক্ষেত্রে রাত ন'টা নাগাদ ওটা চলে আসার কথা।
আমরা ঐ কর্মচারী ভদ্রলোককে আটকে দিলাম। বললাম লঞ্চ না আসা পর্যন্ত আমাদের
সঙ্গে থেকে যেতে। কিন্তু ঘন্টা দেড়-দুই পরে আরেকজন স্টাফ এসে ওনাকে নিয়ে
ফরেস্ট অফিসে চলে গেল। বলে গেল পৌনে সাতটা নাগাদ ঐ লঞ্চটি নামখানা থেকে
ছেড়েছে। এখানে আসতে রাত দশটা হবে।
আমাদের তখন যে কি অবস্থা তা আর কহতব্য নয়। সারাদিনের পরিশ্রমের পর শরীর
বিছানা চাইছে। সেই দুপুর একটার পর আর খাওয়া-দাওয়া হয়নি। খিদে পেয়েছে খুব।
যে কটি বিস্কুট এর ওর কাছে ছিল তার সদ্গতি হল। রেশন করে অল্প অল্প জল
খাওয়া হল। তারপর চারপাশের ঘন জঙ্গল, সামনের জোয়ারের জলে ছলাৎ ছল করে ওঠা
নদীর ঢেউ আর মাথার উপর নক্ষত্রখচিত আকাশ ও বাঁকা চাঁদকে সাক্ষী রেখে হল
এক অবিস্মরণীয় নিশিযাপন। মাঝে মাঝেই কোন শব্দ হলে সেদিকে টর্চ মেরে বা
ইমার্জেন্সি লাইট জ্বালিয়ে দেখে নিচ্ছি। বেশিক্ষণ জ্বালিয়ে রাখতে ভরসা
পাচ্ছি না। লঞ্চ কখন আসবে কে জানে? লঞ্চ না আসা পর্যন্ত আমরা সভ্য জগৎ
থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। কোন এক দিকশূন্যপুরের ঠিকানায় নিরুদ্দিষ্ট হয়ে
ভূতগ্রস্তের মত বসে আছি। গাঙ্গুলির মত স্ফূর্তিবাজ প্রাণচঞ্চল ছেলেও তখন
চুপ হয়ে গেছে। ১০ - ১৫ মিনিট অন্তর অন্তর শুধু ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি।
রাত ন'টা বাজল। লঞ্চের কোন পাত্তা নেই। বেশ কয়েকজন ঐ ইঁটের রাস্তার উপরেই
শুয়ে পড়েছে। আমিও ভারী সুটকেস দাঁড় করিয়ে তাতে হেলান দিয়ে পা ছড়িয়ে বসে
আছি। একটু পরেই দূরে জলের মধ্যে একটা শব্দ ও প্রচন্ড আলোড়নের আভাস পেয়ে
সেদিকে ইমার্জেন্সি লাইট ফোকাস করলাম। ঠিক বুঝতে পারলাম না কি হল। তবে
মনে হল কোন কুমির কোন ছোট জন্তু বা বড় মাছ শিকার করে দূরে চলে গেল। আমরা
আর ইমার্জেন্সি লাইট নেভাতে সাহস পেলাম না। ঐটাই চারদিকে ফোকাস করে
ঘোরাতে লাগলাম।
রাত দশটা বাজল। অপেক্ষার ক্ষণ দীর্ঘতর হয়েই চলেছে। সবচেয়ে হতাশজনক
ব্যাপার আমরা কিছুই খবর পাচ্ছি না যে সেই লঞ্চ কোথায় আছে, কতদূরে আছে?
রাত দশটা কুড়ি নাগাদ ইমার্জেন্সি লাইট দপদপ করে উঠল। বুঝলাম ব্যাটারি
ফুরিয়ে আসছে। নিভিয়ে দিলাম। দু'তিন মিনিট অন্তর একবার জ্বালিয়ে চারদিক
ফোকাস করে আবার নিভিয়ে দিচ্ছিলাম। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ সেটা পুরোপুরি দেহ
রাখল। এবার আমরা সবাই সাংঘাতিক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। দুটি মাত্র তিন
সেলের টর্চ সম্বল। সেগুলির ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কতক্ষণে এই
অপেক্ষার অবসান হবে কে জানে!
একটু পরেই আমি শিবপুর বি ই কলেজে শেখা একটা সময় কাটানোর টেকনিক ফিসফিস
করে গাঙ্গুলিকে বললাম। ও রাজি হল। তারপর আমরা দুজন সামান্য কারণে ঝগড়া
করতে শুরু করলাম। সবাই বেশ অবাক হয়ে গেল। কারণ আমরা দুজন যাকে বলে হরিহর
আত্মা। আমাদের ঝগড়া ওরা কল্পনাও করেনি। কিন্তু ক্রমশ ঝগড়া বাড়তে থাকায়
বাকি সবাই আমাদের দুজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে দুপাশে সরিয়ে দিল। আমাদের বোঝাতে
শুরু করল যাতে বিপদের সময় আমরা মাথা গরম না করি। কিন্তু আমরা আমাদের
অভিনয় চালিয়ে যেতে থাকলাম।
এরমধ্যে একজন বলে উঠল "দূরে একটা আলো দেখা যাচ্ছে না?" সবাই একাগ্র
চিত্তে সেদিকে তাকালাম। সেই ছেলেটিকে সবাই এই মারে তো সেই মারে। কেন এরকম
মিথ্যে কথা বলে আমাদের আশা দিল সে? এবার সে হাসতে হাসতে বলল "দাদা, তোমরা
দুজনও তো আসলে ঝগড়ার ভান করছ - সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। তাই সবার মনোযোগ
আকর্ষণের জন্য আর কিছুটা টাইম পাস করার জন্য আমি এই ঢপ দিলাম।"
এই কথা শেষ হতে না হতেই অন্য একজন বলে উঠল "হ্যাঁ রে, সত্যিই দূরে আলো
দেখা যাচ্ছে।" সবাই আবার তার দিকে তেড়ে গেল। কিন্তু দু'একজন কৌতূহলে
সেদিকে তাকিয়ে দেখল সত্যি সত্যি দূরে একটা আলো মুহূর্তের জন্য দেখা দিয়েই
আবার মিলিয়ে গেল। একটু পরে আবার একই ঘটনা। আরো প্রায় পাঁচ মিনিট পর
পরিষ্কার বোঝা গেল দূরে সত্যিই আলো দেখা যাচ্ছে। ঘড়িতে তখন এগারোটা বেজে
দশ মিনিট।
লঞ্চ জেটিতে ভিড়ল সাড়ে এগারোটার একটু আগে। শুনলাম আধঘন্টা আসার পর ইঞ্জিন
গড়বড় শুরু করে। ওরা নামখানা ফেরত যায়। তারপর অন্য লঞ্চ নিয়ে আবার যাত্রা
শুরু করে। তাই এত দেরি হয়েছে। আমরা লঞ্চে উঠে আগে গোগ্রাসে রাতের খাবার
খেয়ে নিলাম। খিদের মুখে ভাত আর ডিমের ঝোল খেয়ে যেন অমৃতের স্বাদ পেলাম।
তারপর যে যার নিজের বাংকে বিছানা পেতে ঘুম। লঞ্চ কখন ছাড়ল, কখন নামখানা
পৌঁছাল, কিছুই টের পাইনি। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি নামখানা জেটিতে লঞ্চ
দাঁড়িয়ে আছে। একজন বলে উঠল "অবশেষে আমরা শেষ অবধি সভ্যজগতে পৌঁছলাম।"
ক্রমশ..............