মাতলা, ঠাকুরান নদীর পার বেয়ে বেয়ে (নলপুর, ধইচি ও ভগবতপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা)

গৌরাঙ্গ বন্দ্যোপাধ্যায় ,

হাওড়া


পূর্ববর্তী অংশটি পড়ার জন্য লাইব্রেরি বিভাগে দেখুন...


দ্বিতীয় পর্ব

নলপুরের বাঘের গোয়াল:

পরদিন ভোরে আমরা ঘুম থেকে ওঠার আগেই নলপুর অভিমুখে লঞ্চ ছেড়ে দিল। ঘুম ভেঙে ডেকে গিয়ে দেখি সূর্যের আলো সাদা হয়ে গেছে। আফসোস হল আরো আগে উঠতে পারলে নদীর বুকে সূর্যোদয়ের সাক্ষী থাকতে পারতাম। গাঙ্গুলি অবশ্য সূর্যোদয় মিস করেনি। আসলে কাল রাতে অনভ্যস্ত দুলুনিতে অনেকক্ষণ ঘুম আসেনি, তাই ভোরের দিকে ঘুম গভীর হয়ে গেছিল। তবে মাতলা নদীর বিস্তার দেখে মুগ্ধ ও অবাক হয়ে গেলাম। সারেং ভাই বললেন এরপর নলপুর থেকে ধইচি যাবার সময় ঠাকুরান নদী (মাতলার শাখানদী) পড়বে, তার বিস্তার এর প্রায় দ্বিগুন। এখন ওপারে যে হালকা সবুজ রেখা দেখা যাচ্ছে, ঠাকুরান নদীতে পড়লে সেটা আর দেখা যাবে না। মাতলা নদী পেরিয়ে বাঘ পশ্চিমপাড়ের লোকালয়ে মাঝে মাঝে হানা দেয়। আর ঠাকুরান নদীর পূর্ব পারে চিতুরির জঙ্গল। সেটা কোর (core) সুন্দরবন এলাকায় পড়ে। সেই এলাকার বাঘ এই বিশাল ঠাকুরান নদী সাঁতরে আসতে পারে না বা চায় না।

ন’টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম নলপুর ফরেস্ট অফিস। লঞ্চ মাঝনদীতে নোঙ্গর করল। লঞ্চ থেকে নৌকায় উঠলাম পাড়ে আসার জন্য। পাড়ে এসে নৌকার নোঙ্গর আটকানো হল কাদায়। নৌকা থেকে একটা ১০ ফুট লম্বা (কিন্তু মাত্র ১ ফুট চওড়া) কাঠের তক্তা (তার গায়ে ১ ফুট অন্তর খাজ কাটা) হেলিয়ে ফেলা রয়েছে পাড়ের শেষ প্রান্তে। সেখানে অল্প কাদা। ঐ তক্তার ওপর দিয়ে ব্যালান্স করে খালিপায়ে আমাদের নামতে হল। তবে আমাদের লাগেজ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ফরেস্ট অফিসের লোকেরাই নামাল। কাদা বেশি না থাকায় একটু টলমল করলেও কেউ পড়ে গেল না। কাদা এলাকা পেরোনোর পর অন্তত ৪ ফুট উঁচু কংক্রিটের একটা বাঁধ রয়েছে দেখলাম। সেটা পেরোনোর পর ইট বাঁধানো রাস্তা পেরিয়েই নলপুর ফরেস্ট অফিস। অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ১০-১২ টি একতলা বাড়ি। আমাদের সবাইকে তিনটি বাড়িতে ভাগাভাগি করে আস্তানা দেওয়া হল।

পরের ৫ দিন উদয়াস্ত পরিশ্রমের ফলে ঐ ফরেস্ট অফিস কমপ্লেক্সের সবকটি বাড়িতেই বিদ্যুতের আলো (CFL ল্যাম্প) ও ছোট ছোট উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সিলিং ফ্যান চালানো সম্ভব হল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলতে একটাই। একদিন সন্ধের সময় আমাদের একজনের ঘরে একটা কেউটে সাপ ঢুকে পড়েছিল। তারপর নিজেই বেরিয়ে গিয়েছিল। ভয় পাওয়ানো ছাড়া অন্য কোন সমস্যা করেনি।

শেষদিন আমরা পাশের গ্রামটিতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেটি ঐ নদীর পারেই আরো ১ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত। সেখানে গিয়ে আমরা দেখতে পেলাম 'বাঘের গোয়াল'। শুনলাম দিন দশেক আগে সন্ধের দিকে নদী পেরিয়ে একটা খোঁড়া বাঘ গ্রামে ঢুকে পড়েছিল। প্রথমে পুকুরের ধারে বাগানের মধ্যে লুকিয়েছিল, একটা ছাগল মেরে খাচ্ছিল। তারপর লোকের তাড়া খেয়ে পুকুর সাঁতরে অপরপাশে গ্রামের মোড়লের পাকা একতলা গোয়ালঘরে ঢুকে যায়। তখন একজন বাইরে থেকে গোয়ালের ছিটকিনি আটকে দেয়। সেই সময় গোয়ালে একটিই গরু ছিল, খোঁটায় বাঁধা। বাকি গরুগুলো তখনও পর্যন্ত পিছনের মাঠ থেকে ফেরেনি। ক্ষুধার্ত হওয়া সত্ত্বেও বাঘ কিন্তু গরুটিকে আক্রমণ করেনি। কেন কে জানে? বেশ অদ্ভুত ব্যাপার।

গ্রামবাসীরা মশাল জ্বালিয়ে ঐ গোয়ালঘর সারারাত ঘিরে রেখেছিল। বাঘের ঘ্রা-উম ডাক আর গরুর হাম্বা রব সারারাত চলার পর খবর পেয়ে ভোরের দিকে ক্যানিং থেকে বনদপ্তরের শিকারী আসে ঘুমপাড়ানি গুলি ও বন্দুক নিয়ে। ঘন্টা তিনেকের চেষ্টায় বাঘটিকে গুলিবিদ্ধ করে গোয়াল থেকে বের করে খাঁচায় ভরে নিয়ে যায়। বাঘ থাবা মেরে জানলার পাল্লা ভেঙে ফেলেছিল, কিন্তু জানলার রড / শিক কিছু ভাঙতে পারেনি। সেই ভাঙা পাল্লা আমরা দেখলাম। তবে আশ্চর্য ব্যাপার, যে গরুটি বাঘের সঙ্গে একঘরে রাত কাটিয়েছে সে কিন্তু বহাল তবিয়তে ছিল।

ঐ গ্রামে একজন বয়স্ক মউলের সঙ্গে আলাপ হলো। তিনি আমাদের যা বললেন তার মর্মার্থ হলো - 'বাঘের দেখা পাওয়া' ঠিক কি, সেটা মাঝনদীতে লঞ্চে বসে বাঘ দেখে আল্হাদে আটখানা হওয়া কিংবা না-দেখে মুষড়ে পড়া শহুরে মানুষদের পক্ষে বোঝা কঠিন। মূলত মৎসজীবী ও মউলেদের এইসব গ্রামে কোনও পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে নৌকা থেকে টেনে নিয়ে গেছে বাঘ। হয়তো দেহ অবধি উদ্ধার হয়নি। সৌভাগ্যবান কারুর পরিবার কুড়িয়ে পেয়েছে স্বজনের বাঘে-খাওয়া দেহের অবশেষ। কেউ বাঘের সঙ্গে লড়াই করে ফিরেছে পঙ্গু হয়ে। যেমন দূরের কোন গ্রামের একজনের কথা বললেন, যাঁর গালের অর্ধেকটা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। তিনি বাঘের আক্রমণে র মুখে বাঘের থাবা দুহাতে চেপেও প্রতিহত করতে পারেননি বলে বাঘের চোখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। তখন বাঘ তার গালের মাংস খুবলে নিয়ে চলে যায়। বছর খানেক যমে-মানুষে টানাটানির পর তিনি বেঁচে ফেরেন ঠিকই, কিন্তু তরল খাবার ছাড়া কিছুই খেতে না পারায় পুষ্টির অভাবে বছর চারেক পরে মারা যান। মউলেবুড়ো বললেন, "বাঘের স্বভাব হলো সে একবার যাকে নিশানা করে, অন্যান্যদের ফেলে তাকেই সবসময় আগে আক্রমণ করে। কাকে নিশানা করবে সেটা অদৃষ্টের লিখন।" এই সব মানুষদের সাহসের কথা ভাবলে চমকে উঠতে হয় বৈকি। জিজ্ঞাসা করে জানলাম ওনার পরিবার অর্থাৎ স্ত্রী নাকি এখন বন দফতরের হয়ে ম্যানগ্রোভের ছাড়া সংগ্রহের কাজ করেন।


ধইচির ওয়াচ টাওয়ারে এক রাত, বুনো বরা ও মৌমাছির ঝাঁক:

পরদিন বেলা দশটার পরেই আমরা নলপুর থেকে বেরিয়ে পড়লাম ধইচির উদ্দেশ্যে। একটু পরেই 'ঠাকুরান' নদীতে পৌঁছলাম। সত্যি! এ তো নদী নয়, সমুদ্র! পশ্চিমপাড়ে আবছা গাছপালা চোখে পড়লেও পূর্বপাড়ে নদী দিগন্তে মিলিয়ে গেছে। বেশ বড় বড় ঢেউ। আমরা চলেছি দক্ষিণপানে। যত এগোচ্ছি তত যেন ঢেউ বাড়ছে। এর আগে ডায়মন্ডহারবার মোহনায় লঞ্চে ঘোরার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি বিস্তার ও অনেক উঁচু ঢেউ।

আমাদের সারেং চাচা বলছিলেন - প্রতি পদে বিপদ। তবু জঙ্গলে না ঢুকে উপায় নেই সুন্দরবনবাসীর। মূল নদীতে ভুটভুটি ও লঞ্চের চলাচল বেশি হওয়ায় মাছ-কাঁকড়ার দল নদীর খাঁড়ির দিকে সরে যায়। তাই জেলেরাও বাধ্য হয়ে দুর্গম খাঁড়িতে প্রাণ হাতে নিয়ে বাঘ আর কুমিরের আস্তানায় ঢোকে যখন জোয়ার (স্থানীয় ভাষায় 'গন') আসে। এক 'গনে' নৌকা বা তালগাছের গুঁড়ির তৈরী ডোঙায় চড়ে খাঁড়িতে ঢোকে। তারপর নদীচরে জাল পেতে জঙ্গলে ঘেরা খাঁড়িতে তিন-চারদিন অপেক্ষা। মাছ-কাঁকড়া জুটলে পরের 'গনে' আবার নৌকা ছেড়ে ঘরে ফিরে সেগুলো মহাজনের মাধ্যমে শহরে পৌঁছানো। শীতে চাহিদা বেশি। তাই কিছু বাড়তি লাভের আশায় জীবন বাজি রেখে এইভাবে মাছ-কাঁকড়া সংগ্রহ। উপায় নেই। পেট চলবে কিভাবে? কিন্তু এক জোয়ারে যে নৌকা ভাসালো পরের জোয়ারে সে ফিরবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই।

প্রায় ঘন্টা তিনেক ঐ নদীতে চলার পর আমরা ডানদিকের একটা খাঁড়িতে ঢুকে নোঙ্গর করলাম। তারপর বেলা তিনটের সময় লাঞ্চ করলাম লালচে ভাত, ডাল, সবজি ও একটু আগে অন্য মাছধরা নৌকা থেকে সংগ্রহ করা একটা নতুন প্রজাতির লালচে রঙের চিংড়ি ভাজা দিয়ে। এরপর আরো ঘন্টাখানেক সময় কাটিয়ে লঞ্চ আবার চলতে শুরু করল। বিকেলের পর গোধূলি লগ্নে লঞ্চ পৌঁছল ধইচি বনদপ্তরের অফিসে। সেখানের একমাত্র ঘাটটি পুরো ভাঙা। তাই লঞ্চ থেকে যে নৌকায় উঠলাম সেটি পাশের আঘাটাতে ভেড়াতে হল। এখানে নামতে গিয়েই আমাদের একজন সহকর্মী জলের মধ্যে পড়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য তাঁকে তোলা হল ও আমাদের পরবর্তী পাঁচ দিনের নির্দিষ্ট বাসস্থানে পৌঁছে দেওয়া হল।

ধইচি বনদপ্তরের অফিস থেকে দু আড়াই শো মিটার দূরে একটি ওয়াচ টাওয়ার ছিল। তার পাশেই একটা মজা নদী ও সল্ট লিক। শুনলাম ওখানে বিভিন্ন প্রাণী রাতে জল খেতে আসে। দুদিন পরেই ছিল পূর্ণিমা। তাই আমি আর গাঙ্গুলি ঠিক করলাম সেই রাতটা আমরা ওখানে কাটাব। তার আগের দিন বিকেলের দিকে আমরা জায়গাটা রেইকি করতে গিয়েছি। প্রায় ১০ - ১২ থাকে ৩০০ - ৩৫০ সিঁড়ি ভেঙে ওয়াচ টাওয়ারের মাথায় অবস্থিত ঘরটিতে পৌঁছান যায়। আমরা সন্ধের আগেই ওখানে পৌঁছে শেষ থাকের সিঁড়িতে বসে গল্প করছিলাম। হঠাৎ একটা অপার্থিব জান্তব শব্দ পেয়ে আমরা দুজনেই ছুটে উপরে উঠে টং-এর ঘরটিতে ঢুকে ভেতর থেকে ছিটকিনি আটকে দিলাম। তারপর জানলা দিয়ে এদিক ঐদিক তাকিয়ে কিছুই দেখতে পেলাম না। আরো প্রায় পনের মিনিট ওখানে অপেক্ষা করে চটপট নিচে নেমে ছুটতে ছুটতে ফরেস্ট অফিসে পৌঁছে গেলাম। বেশি দেরী করতে পারলাম না যাতে ঐ জায়গাটা পুরো অন্ধকার না হয়ে যায়।

পরের দিন আমাদের দুজনের সঙ্গে ফরেস্ট অফিসের একজনও সন্ধের একটু পরেই রাতের খাওয়া সেরে তিন সেলের লম্বা টর্চ নিয়ে ঐ ওয়াচ টাওয়ারের টং এর ঘরটিতে এল। তারপর মেঝেতে কম্বল বিছিয়ে শুয়ে গেল। আমরা দুজন ওডোমস (মশা তাড়ানোর ক্রীম) গায়ে মেখে জানলার নিচের সিমেন্ট বাঁধানো জায়গাটাতে বসে রইলাম।

নদীটির পাড় জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে। একটাই বাইনোকুলার কখনও আমার চোখে, কখনও ওর। একটু রাত বাড়তেই চিতল হরিণের পাল চলে এল। অন্তত ১০ - ১২ টি হরিণ। তার মধ্যে দুজনের শিং-এর বাহার দারুন। ও দুটি পুরুষ হরিণ। এছাড়া ২ - ৩ টি ছোট ছোট শিশু হরিণও ছিল। হরিণের পাল প্রায় মিনিট কুড়ি কাটানোর পর উধাও হল। তারপর দেখি চারপেয়ে দুটি কালো রঙের জন্তু, ভালুকের থেকে একটু বড়। আমরা বন কর্মচারীকে জাগিয়ে জানতে পারলাম ওগুলো বন্য বরাহ। ওদের ভাষায় 'বুনোবরা'। হঠাৎ তাদের একটি আকাশের দিকে মুখ তুলে যে ডাকটি দিল সেটি শুনেই আবার হৃৎকম্প শুরু হল। গত সন্ধ্যেতে এই ডাকই আমরা শুনেছিলাম। অবশ্য রাত বারোটার পর আমরা দুজনেই ঢুলতে শুরু করলাম। একটু পরে কম্বল পেতে গুটিশুটি মেরে ওখানেই শুয়ে গেলাম।

পরদিন বিকেলের দিকে আমরা দূরের মাঠে সোলার সেল ইন্স্টল্ করার কাজ সেরে ফিরছিলাম ফরেস্ট অফিসের দিকে। দুপাশে বড় বড় ঘাসের মাঝখান দিয়ে সরু আল রাস্তা। একদম সামনে ছিল গাঙ্গুলি, একদম পিছনে আমি। তখন সন্ধে হব হব, সূর্যের আলো মরে এসেছে। হঠাৎ গাঙ্গুলি চিৎকার করল 'তফাৎ যাও'। আমরা পাচঁজনেই তখন ডানদিক বাঁদিকে ঘাসের ঝোপে কাদার মধ্যে সেঁধিয়ে গেলাম।

দেখি একটা কালো জন্তু তীব্রগতিতে ঐ রাস্তা ধরে ছুটে গেল। তার পিছনে আরেকটা সেই জন্তু যেতে গিয়েও আমাকে অতিক্রম করে থমকে দাঁড়ালো। ঘুরে আমাদের দিকে মুখ ফেরাতেই দেখি মুখের দু'পাশে সাদা সাদা কি যেন বেরিয়ে আছে। গাঙ্গুলি ফটাস করে ব্যাটারিচালিত জোরালো ইমার্জেন্সি লাইট জ্বালিয়ে ওর চোখের দিকে আলো ফেলল। সঙ্গে সঙ্গে সেটি উল্টোদিকে ঘুরে ছুটে পালাল। আমরা কাদামাখা শরীরে ফরেস্ট অফিসে আমাদের বাসস্থানে পৌঁছানোর পর বুঝতে পারলাম আজ আমাদের (বিশেষ করে আমার) বড় ফাঁড়া কেটে গেল। কারণ ঐ ‘বুনোবরা’ নাকি বাঘকেও পরোয়া করে না। ওদের দাঁতের আঘাতে নাকি কখনও কখনও বাঘেরও ভবলীলা সাঙ্গ হয়। গাঙ্গুলির সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধিকে স্যালুট জানাতে হয়। ওর জন্যই বলা যায় জীবন ফিরে পেলাম।

ধইচি ছেড়ে আসার আগের দিন আমরা ফরেস্ট অফিসের টিউবওয়েলে জল তুলে সাবান মেখে চান করছিলাম। আমাদের মধ্যে কুমার ছিল সবচেয়ে পরিপাটি ও প্রসাধনে মনোযোগী। সে একটি অতীব সুগন্ধি সাবান নতুন বের করেছিল। সেটি গায়ে মাখছিল। অকস্মাৎ গুনগুন শব্দে তাকিয়ে দেখি দূরের একটি মৌমাছির চাক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি উড়ে আসছে। আমরা সবাই সেই অবস্থাতেই অফিসের একটি ঘরে ঢুকে দরজা জানলা বন্ধ করে দিয়েছি। ঘরের মধ্যে দুটির বেশি মৌমাছি ঢুকতে পারেনি। একটু চেষ্টাতেই সে দুটিকে মারা গেল। আমাকে একটি মৌমাছি হুল ফুটিয়েছিল। অন্যদের হয় একটি নয় দুটি ফুটিয়েছিল। তবে সবথেকে করুণ অবস্থা কুমারের। তাঁর শরীরে পাঁচটা হুলের ক্ষত, একটিতে মৌমাছিকে আলাদা করা মুশকিল হল। ওনার তো রাতে জ্বর চলে এল। পরে বুঝতে পেরেছিলাম যে ওনার সুগন্ধি সাবানই হল এই বিপর্যয়ের মূল।


ক্রমশ..............