মায়া-কান্না (চতুর্থ পর্ব)

সুনন্দন শিকদার,

কলকাতা


পূর্ববর্তী অংশটি পড়ার জন্য লাইব্রেরি বিভাগে দেখুন...

স্বপ্ন তো মাঝে মাঝে সত্যি হয়েও যায় । ইমেল বা এস এম এস দীর্ঘশ্বাসকে কত নিকটে নিয়ে আসে , প্রাপ্তিসুখকে মুহূর্তেই কতটা সুস্পষ্ট করে দেয় । প্রণবদের বাড়ি বেশ ছিমছাম । গোছানো । তারা যে ধনী তা সহজে বোঝা যায় না । চাবাগান মাসাধিক বন্ধ হয়ে তাদের কিছু লোকসান হয়েছে । কতৃপক্ষ আর শ্রমিকদের এই ঝামেলা মধ্যে মধ্যে লেগেই থাকে । শান্তিময় চিন্তিত মুখে ঘরময় পায়চারি করছেন । চেয়ারে বসে আছে প্রণব । তার মনে ছবিটা ক্রমাগত ঘুরছে । গঙ্গার ধারে তার হাতে হাত ধরে অলকা । দূরে স্টিমারের আলো । কিন্তু এবারের ছবিটা কাল্পনিক নয় । সত্যিকারের । গতকাল সে সত্যিই গিয়েছিল । কেবল হাত ধরার মধ্যে এত শিহরণ । কত দ্রুতই না একের পর এক সব ঘটে গেল ।

শর্মিষ্ঠা ঘরে ঢুকে বললেন ,
- তোমরা কি খাবে না ঠিক করেছো নাকি । কখন থেকে ডাকছি ।

খাবার ঘরে বড় একটি কাঠের টেবিল । রক্তময়ের মৃত্যুর পর টেবিলটি শান্তিময়ের ভাগে পড়েছে । তাতে থালা , বাটি , হাঁড়ি-কুঁড়ি সাজানো । হাঁড়ি খুলতেই খিচুড়ির গন্ধ । বাটিতে ডিমের ঝাল । দেয়ালে ঘুমন্ত হলুদ আলোয় একটি অয়েল পেন্টিং ।

সকলে খেতে বসেছে । হাতায় করে খিচুড়ি দিতে দিতে শর্মিষ্ঠা বললেন ,
- তোর কি হয়েছে বল তো দিপু ।

দিপু প্রণবের ডাকনাম । সে ইতস্ততঃ করে বলে ,
- কি ?

- সব সময় কি সব ভাবিস ।

- কেন ভাবার কি কারণ থাকতে পারে না ।

- চা বাগানের ব্যাপারটা মিটে যাবে ।

- সে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছি না ।

- এই বয়সের ছেলেদের ভাবনার সামান্যই কটা কারণ থাকে ।

শর্মিষ্ঠা আর ঘাঁটালেন না । কিন্তু তাঁর কাছে যে বেশীদিন আর লুকোন যাবে না তা বেশ বুঝল প্রণব । মায়ের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় যে অসাধারণ , তা বেশ কয়কবার পরিচয় পেয়েছে ।

এমন ভাবেই চলে খেলা । যদি অলকা এস এম এস পাঠায় – মিসিং ইউ , তবে প্রণবের উত্তর যায় – মি টু , ফের অলকা এস এম এস পাঠায় – এত শর্ট আনসার কেন ? তুমি কি অবজেকটিভ টাইপ কোশ্চেনের উত্তর লিখছ ?

এতবার এস এম এস করে করে ওরা এত মামুলি কুশলবিনিময় করেছে যে প্রণব বোঝে সে কোনদিন এত খুশি হয়নি ।

ওদের প্রেমপর্বের মধ্যেই পৌলমীর হঠাৎ বিয়ের ঠিক হয়ে যায় । পাত্র মিলিটারিতে অ্যাকাউন্ট্যান্ট । যদিও ট্রান্সফার পোস্টিং কিন্তু যুদ্ধের ঝুঁকি নেই । সুরক্ষিত চাকরি । পৌলমী আর রাত্রি এখনো সুযোগ পেলে প্রণবকে ঠাট্টা করে –

- দেখবেন মশাই বিয়ের পরে কোন অপরিচিত মহিলার বিল যেন নিজের কাঁধে তুলে নেবেন না । অলকা কথা দিয়েছে তা হলে আমাদের ডেকে পাঠাবে ।

ক্রমশ..............