খুঁজে ফিরি আমার দেশ (অরুণাচল সিরিজের কবিতা)
সুনন্দন শিকদার,
কলকাতা
শিখ রেজিমেন্টের সুবেদার যোগীন্দর সিংহের মুখে
পাইন গাছ সেই দিন প্রথম শুনল – যো বোলে সো নিহাল
তাওয়াং-এর পাহাড়ে পাহাড়ে তখন মেশিন গানের শব্দ
সৎ শ্রী আকাল , মানে কী ?
পাইনগাছটি জিজ্ঞাসা করল ফার গাছটিকে
ফার বলল , ওক গাছকে বল , সে ধর্ম ভাল জানে
দেখেছ , বেয়নেট উঁচিয়ে এক সর্দারজী ছুটে যাচ্ছে
ওঁর কী গুলি শেষ হয়ে গেছে ? এ তো নিশ্চিত মৃত্যু !
ফার বলল , যো বোলে সো নিহাল , কেন বলছে সর্দারজী ?
ওক বলল , যো বোলে সো নিহাল , গুরু গোবিন্দজীর মন্ত্র ,
এই কথা বললে , তোমার ইচ্ছাপূরণ হবে
ফার বলল , একজন পাঞ্জাবী মানুষ তাওয়াং এ এসে কেন মৃত্যু চাইবে ?
মেশিনগানের গুলিতে সর্দারজী পড়ে গেল , চারিদিকে অক্টোবরের কন্ কনে
থাবা
ওক বলল , আমিও ঠিক বুঝছি না , একজন পাঞ্জাবে জন্মানো শিখ ,
চিনা সৈন্যকে আটকাতে , তাওয়াং উপত্যকায় কেন নিরস্ত্র ছুটে যাচ্ছে !
আজ ওই দূরে দেখি , পাহাড়ের চূড়ায় জমেছে অল্প বরফ
স্তব্ধ উপত্যকায় একটি পাখি শিস্ দিচ্ছে , আঙুলের ফাঁক দিয়ে
ভেসে যাচ্ছে মেঘ , ঠান্ডা হাওয়ায় হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে
পাইন গাছ বলল , গুরু গোবিন্দজী ও কথাটা কেন বলেছিলেন ? মন্ত্র বললে কি
ফুল হয় , না ফল হয় ?
ফার গাছ বলল , গুরুর মন্ত্র নিয়ে মানুষটা কেন এভাবে ছুটে গেল , এখনো
ভুলতে পারছি না
ওক গাছ মাথা নাড়ল – আমাদের গাছেদের মধ্যে এমন হয়না ! সে দিনটা অবিস্মরণীয়
!
শতাব্দীর পর শতাব্দী , পাতা ঝরে , মেপল্ পাতা ঝরে যায়
পাহাড়ি ঝোরা থেকে জল , পাথর ভাঙতে ভাঙতে , পাথর ভাঙতে ভাঙতে
বাতাসকে শোনায় নতুন নতুন দিগন্তের কথা
আমি বলি , আমি নদীর মত খুঁজে ফিরি আমার দেশ
বৃষ্টি পড়ে , বৃদ্ধ ওকগাছ , নিষ্পত্র শাখা মেলে আমার দিকে চেয়ে থাকে
তারপর মাটির দিকে মুখ নামায় , কেবল চেয়ে থাকে ।