আমার জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর তিন দিন (Jim Corbett National Park)

অর্ঘ্যদীপ গুড়িয়া,

নিউ-দিল্লি

যদিও এটা পড়ে আপনাদের মনে হতেই পারে- "আরে এটা তো একটা ভ্রমণ কাহিনী!" আপনাদের অনুমান মিথ্যে নয়, একেবারেই তা সর্বৈব সত্য। তবে এই ভ্রমণের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে এমন সব রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা যে এটা কোন রোমাঞ্চকর গল্প কে ও হার মানায়।

২০১৯ সালের জুন মাস। আমি তখন ক্লাস টেন-এ পড়ি, আর আমার ছোট্ট বোন ক্লাস ফোরে। গরমের ছুটি শুরু হয়েছে, প্রায় প্রতিবছর এই সময় আমরা কলকাতায় দাদু দিদুর বাড়িতে বেড়াতে যাই। কিন্তু এ বছর আমার ক্লাস টেনের বোর্ড, তাই কলকাতায় বেড়াতে যাওয়ার প্রোগ্রাম ক্যানসেল করেছে মা-বাবা। গরমের ছুটির এই প্রায় পুরো দেড় মাস ঘুরে বেড়ানোর অভ্যাস সেই ছোট্টবেলা থেকেই। সেই অভ্যাস কি এত সহজে মন থেকে যায়, না মন মেনে নেয়! তার উপরে দিল্লির প্রাণ আই ঢাই করা প্রচন্ড গরম। আমি আর বোন তো অস্থির হয়ে উঠেছি। মা বাবা বলল- ঠিক আছে, পড়াশোনা করে নাও, কাছে পিঠে কোথাও একটা শর্ট ট্রিপ আমরা করে নিতেই পারি। কিন্তু কোথায় যাওয়া হবে এই জল্পনা কল্পনাতেই কেটে গেল অনেকগুলো দিন। পড়াশুনা প্রায় শিকেয় উঠেছে। বাবা-মা অফিস থেকে ফিরলে দুই সপ্তাহ ধরে আমাদের বাড়িতে একটাই আলোচনা—কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়! অবশেষে ঠিক হলো আমরা উত্তরাখণ্ডের জিম করবেট অভয়ারণ্যে বেড়াতে যাব। মেক মাই ট্রিপ থেকে “ডিয়ার ভিউ” নামে একটি রিসোর্টে দু’রাত্রি তিন দিনের বুকিং করা হলো। আনন্দে তখন আমাদের ঘুম উড়ে গেছে!

এর পর গোছ- গাছ করে এক বৃহস্পতিবার মা বাবা অফিস থেকে ফিরতেই আমরা চটজলদি খাবারদাবার খেয়ে রাত্রে দিল্লি থেকে উত্তরাখণ্ড পরিবহনের বাসে চেপে জিম করবেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমার মনের ভেতরে যেন হাজার প্রজাপতি ডানা মেলে দিয়েছে। ভোরের দিকে প্রায় সাড়ে চারটে নাগাদ আমরা রামনগর পৌঁছোলাম। মাত্র কয়েকশো কিলোমিটারের ব্যবধানে দিল্লির তাপমাত্রা আর এখানকার তাপমাত্রার ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে চোখে পড়ার মতো। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ছোট্ট শহর, চারপাশে সবুজের সমারোহ—মনটাই যেন ভরে গেল। যেহেতু দুপুর 12 টায় আমাদের রিসোর্টে চেক ইন ছিল তাই আমরা রামনগরে অপেক্ষা না করে সেখান থেকে একটি স্থানীয় পরিবহনের গাড়িতে চেপে নৈনিতালে বেড়াতে চলে গিয়েছিলাম। নৈনিতালে গিয়ে সেখানকার লেকে খুব মজা করেছিলাম। তারপর সেখান থেকে গাড়িতে করে আমাদের রিসোর্ট “ডিয়ার ভিউ”-তে প্রায় দুপুর দুটোর সময় আমরা পৌঁছোলাম। নামের মতোই সুন্দর আর মনোরম জায়গাটা, লোকমুখে শুনলাম হরিণে ভরা বলেই নাকি এমন নাম!

রিসোর্টে ঢুকেই দেখি চারপাশে আম, লিচু, আড়ু আর নাশপাতির গাছ। প্রকৃতির মাঝখানে এক শান্ত পরিবেশ। শহরের কোলাহল অনেক দূরে ফেলে এসেছি। বাজারের ধকল আর নৈনিতালে ঘোরার সারাদিনের ক্লান্তি ধুয়ে মুছে সাফ করতে প্রথমেই আমরা চারজনেই তৈরি হয়ে ঝুপঝাপ করে নেমে পড়লাম রিসোর্ট এর সুইমিং পুলে। আহ! কি আরাম! সুইমিংপুলের ঠান্ডা ঠান্ডা জল আমাদের যেন মনের অন্তস্থল পর্যন্ত ঠান্ডা করে দিচ্ছিল। বেশ কিছুক্ষণ পুলের জলে দাপাদাপি করার পর আমরা নিজেদের রুমে ফিরে এলাম এবং এক এক করে বাথরুমে ঢুকে স্নান করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। তারপর কোনরকমে ডাইনিং স্পেসে গিয়ে অল্প একটু করে লাঞ্চ সেরেই আমরা চারজনেই হুড়মুড়িয়ে পড়লাম বিছানার মধ্যে। রুমের এসি অন করে পাতলা ব্ল্যাঙ্কেট গুলো নিজেদের গায়ে জড়িয়ে যেমনি বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছি, কোথায় থাকে ঘুমের পরী! সে এসে যেন ভর করেছে আমাদের চারজনের চোখে। প্রকৃতির ডাকে আমার যখন ঘুম ভাঙলো চারিদিকে অন্ধকার কুপ কুপ করছে। বুঝতে একটু সময় লাগলো কোথায় আছি, তারপর হাতড়ে হাতড়ে রুমের লাইট জানলাম। মা বাবা আর বনু তখনো অকাতরে ঘুমোচ্ছে। এরপর বাথরুম থেকে ফিরে এসে সবাইকে জাগালাম আমি।

বাবা গেল কিচেনের দিকে চায়ের সন্ধানে। কিন্তু ততক্ষণে চায়ের পর্ব সমাধা হয়েছে অনেক আগেই। রীতিমতো ডিনারের আয়োজন চলছে। বাবা অবশ্য আলাদা করে চায়ের জন্য রিকোয়েস্ট করেনি ওদেরকে। রুমে এসে বাবা বলল চলো তৈরি হয়ে নাও আশপাশটা একটু ঘুরে আসি। মা বলল এই জঙ্গলের মধ্যে অন্ধকারে কোথায় ঘুরতে যাবে? বাবা বলল চলোই না, আশেপাশে তো দু-একটা গ্রাম আছেই। চলো একটু না হয় গ্রামের চায়ের দোকানে চায়ের স্বাদ নিয়ে আসি। আমি আর বোন তো সাগ্রহে রাজি হয়ে গেলাম। অগত্যা মাকেও রাজি হতে হলো। তারপর চারজনেই আমরা তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম কিছুক্ষণের জন্য। খুব বেশি দূর নয় রিসোর্ট থেকে পায়ে হেঁটে মিনিট পাঁচেক যাওয়ার পরেই ছোট্ট একটি গ্রাম পেলাম। আর পেলাম সেই গ্রামের রাস্তার উপরেই পাশাপাশি দুটি দোকান। যার একটিতে চায়ের ব্যবস্থা আর অন্যটিতে রুটি তরকারির ব্যবস্থাও ছিল। দেখলাম আমাদের রিসোর্টৈই আমাদের পাশের রুমে থাকা সর্দার জি ভদ্রলোক আর তার মিসেস দুজনে চা খাওয়ার পরে পাশের দোকান থেকে রুটি তরকারি নিলেন। ভদ্রলোককে বাবা জিজ্ঞেস করল যে রিসোর্টে ডিনার করবে না কেন। ভদ্রলোক জানালেন রিসোর্ট এর খাবার খুবই বাজে সেই জন্য তিনি বাইরে থেকে খাবার নিচ্ছেন। এটা খুব সত্যি কথা, দুপুরবেলার খাবার খেয়ে আমাদেরও মোটেই ভালো লাগেনি। আর সেই তুলনায় দামটাও অনেক বেশি। তাই মা বাবা ও ঠিক করল যে বাবার চা খাওয়া হয়ে গেলে আমরাও এখান থেকেই রাতের ডিনারটা প্যাকিং করিয়ে নিয়ে নেব। তবে রাত্রে রুটি খাওয়ার ইচ্ছে আমার একেবারেই ছিল না, তাই বাবা দোকানী কে রিকোয়েস্ট করতে দোকানী আমার আর বোনের জন্য ভেজ চাউমিন বানিয়ে দিলেন। যতক্ষণ বাবা দোকানে বসে চা খাচ্ছিল আর মাম্মা খাবার প্যাকিং করাচ্ছিল ততক্ষণ স্থানীয় লোকেদের কথোপকথনে বুঝতে পারলাম যে এখানে হামেশাই বাঘ চিতা নেকড়ে ইত্যাদি দেখা যায়। গ্রামের দোকান থেকে রিসোর্ট; ওইটুকুনি ফেরার পথে জঙ্গলের মধ্যে প্রতি মুহূর্তে ভয়ে আমাদের যে কি অবস্থা হচ্ছিল সে আর বলার কথা নয়। চারিদিকে অন্ধকার আর তার মাঝে বাবা আর মায়ের হাতে থাকা মোবাইলের টর্চের আলো ছাড়া আর অন্য কিছু সম্বল নেই।


পরের দিন সকালে ছিল জঙ্গলে সাফারি। বাবা আগের দিন সন্ধ্যাতেই দোকানে চা খাবার সময় দোকানদারের সাথে কথাবার্তা বলে সাফারির জন্য জিপ বুক করে রেখেছিল। আমরা খুব ভোর ভোর ঘুম থেকে উঠে চট জলদি তৈরি হয়ে নিলাম। প্রায় সাড়ে চারটে পাঁচটার সময়, তখনও ভালো করে আলো ফোটেনি, জীপের ড্রাইভার বাবাকে কল করলেন যে তিনি রিসোর্ট এর গেটের সামনে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। খোলা জিপে চেপে আমরা ঘন অরণ্যের ভেতর ঢুকে পড়লাম। চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা, দূর থেকে মাঝে মাঝে ভেসে আসছে কিছু জংলি জানোয়ারের আওয়াজ আর নাম না জানা পাখির ডাক। অরণ্যের বিশাল বিশাল সাল সেগুনের জঙ্গলের মাঝে মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা লাল কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো যেন এক অন্যরকম আবেশের সৃষ্টি করছিল। আরো ছিল কিছু রংবেরঙের ফুলের সমাহার, যে ফুলের নাম জানি না আমরা। তবে তার রূপে মুগ্ধ আমরা সবাই। কখনো খালি চোখে আবার কখনো চোখে দূরবীন লাগিয়ে দেখলাম হরিণের পাল, অজস্র নাম না জানা পাখি আর বিশাল বিশাল ময়ূর। হঠাৎ একটি বাঁক ঘুরেই আমাদের জিপের ড্রাইভার কাম গাইড ফিসফিস করে বললেন—“ওইদিকে দেখুন।” তাকিয়ে দেখিয়ে আমাদের থেকে বোধহয় খুব বেশি হলে হাত পঞ্চাশেক দূরে একটি মা বাঘিনী, আর তার সঙ্গে তিনটি ছোট্ট শাবক জল খাচ্ছে! জল খাওয়া শেষ করে আমাদের দিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে সত্যিকারের রানীর মত গটগট করে আমাদের সামনে থেকে বাচ্চা তিনটেকে নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। ভয়ে বিষ্ময়ে আমরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে সেই দৃশ্য দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন কোনো ডিসকভারি বা অ্যানিমাল প্লানেট চ্যানেলের দৃশ্য নিজের চোখে দেখছি। এরপর সাফারির বাকি পথটা আমরা যেন ঘোরের মধ্যে কাটিয়েছি।

সাফারি শেষে রিসোর্টে ফিরে এসে স্নান সেরে ব্রেকফাস্ট করে নিলাম আমরা সবাই। তারপর আমরা বেরিয়ে পড়লাম আশপাশটা ঘুরে দেখার জন্য। সাফারি জিপের ড্রাইভার কাকুকে বাবা আগে থেকেই বলে রেখেছিল তাই তিনি তাঁর গাড়িতে করে আমাদেরকে নিয়ে গেলেন স্থানীয় দুই একটি মন্দির এবং পরিশেষে আমাদেরকে রামনগরের বাজারে নিয়ে গেলেন। সেখানে আমরা লাঞ্চ করে আরো দুই একটি জায়গায় ঘুরলাম। তারপর সন্ধ্যেবেলা আগের দিনের গ্রামের সেই দোকানের সামনেই ড্রাইভার কাকু আমাদেরকে নামিয়ে দিলেন। এখন বাবা চা খাবে আর তারপর পাশের দোকান থেকে ডিনার প্যাক করিয়ে নিয়ে একেবারে রিসোর্টে ফিরবো আমরা। এই ফাঁকে আমার সাথে দেখা হয়ে গেল বিক্রমের, টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল সে। ওহো তোমরা তো জানোই না বিক্রম কে, এসো পরিচয় করিয়ে দিই। দুদিন ধরে আমরা যে দোকানে খাবার নিচ্ছিলাম সেই দোকানদারের প্রায় আমারই সমবয়সী একটি ছেলে ছিল, যার নাম বিক্রম। ফর্সা লম্বা আর কোঁকড়া চুল, টিকলো নাক আর বুদ্ধিদীপ্ত একজোড়া উজ্জ্বল চোখ। প্রচন্ড সাহসী সে, প্রতিদিন সন্ধ্যায় তার পড়াশোনা শেষ হয়ে গেলে সে দোকানে আসতো তার বাবাকে সাহায্য করার জন্য। দু’দিনেই আমাদের দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। সে আমার মা বাবাকে বলে তার সাথে করে আমাকে তাদের জঙ্গলের ভেতরের বাড়িতে নিয়ে গেল। পরিচয় করলো তার মা ঠাকুমা জেঠিমা কাকিমা আর ঠিক আমার বোনের মতোই তার ছোট্ট বোন বিন্নির সাথে। জঙ্গলে ঘেরা গ্রামের কাঁচা রাস্তা, চারপাশে ঘন গাছপালা আর এক মিষ্টি বুনো গন্ধ—এক অন্য জগৎ। ওদের মিষ্টি ব্যবহার আর মুখে লেগে থাকা নিষ্পাপ হাসি আর সরল জীবন যাপন দেখে আমার খুব ভালো লেগেছিল। আসার সময় ওর মা আর বোন আমার হাতে একটা ছোট্ট থলি দিয়ে বলেছিল ওর মধ্যে তাদের গাছের কয়েকটি আম আছে আমি যেন আমার বোনকে সেগুলো দিই।

ফেরার সময় তখন প্রায় অন্ধকার। আমি আর বিক্রম আমরা দু’জন গল্প করতে করতে ফিরছি। হঠাৎ সামনেই দেখি অন্ধকারের মধ্যে দুটো জ্বলন্ত আগুনের ভাঁটা। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিক্রম আমার হাতে টান দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে গেল, তারপর প্রায় ফিসফিসিয়ে আমার কানে কানে বলল লেপার্ড! রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আছে একটি লেপার্ড! আমাদের থেকে খুব বেশি দূরে নয়। মুহূর্তে শরীর কেঁপে উঠল। সে কিছুক্ষণ আমাদের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর ধীরে ধীরে জঙ্গলের মধ্যে মিলিয়ে গেল। সেই কয়েক সেকেন্ড যেন কয়েক মিনিটের মতো লম্বা হয়ে গিয়েছিল। জীবনে প্রথমবার এত কাছে বন্য প্রাণী দেখে ভয় আর রোমাঞ্চ একসাথে অনুভব করলাম।

সেই রাতেই আমরা রিসোর্টের সুইমিং পুলে নামলাম। আকাশভরা তারা, চারপাশে অন্ধকার জঙ্গল—এক অন্যরকম অনুভূতি। প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে আমরা পুলের জলে মস্তি করছি, হঠাৎই রিসোর্টের বাগানের দিক থেকে হুটোপুটির মতো অদ্ভুত শব্দ কানে এলো! কেউ চিৎকার করে উঠল—“বাঘ ঢুকেছে!” আমরা আর এক মুহূর্তও না ভেবে দৌড়ে নিজেদের রুমে ঢুকে পড়লাম।

পরে জানা গেল, বাগানের লিচু আর আড়ু খাওয়ার লোভে এক পাল হরিণ ঢুকে পড়েছিল। তখন নিজেদের বোকামি ভেবে এত হাসি পেল যে পেটে খিল ধরার উপক্রম! বোন তো হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল।

তৃতীয় দিন আমরা গেলাম Jim Corbett Falls দেখতে। ঝরনার জল নিচে পড়ে যেন রুপোর সুতো বুনছে। ঠান্ডা জলে পা ভিজিয়ে কী যে আনন্দ পেয়েছিলাম! বোন তো লাফাতে লাফাতে ভিজেই গেল।

রিসোর্টের মালিকের অনুমতি নিয়ে আমরা নিজের হাতে আম, আড়ু, লিচু আর নাশপাতি পেড়ে খেয়েছিলাম। গাছ থেকে সরাসরি পেড়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। শহরে এমন অভিজ্ঞতা কোথায়!

এই তিন দিনে আমি বুঝেছিলাম, প্রকৃতি কত বিশাল, জঙ্গলের নীরবতা, বন্য প্রাণীর স্বাধীন চলাফেরা, পাখির ডাক সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত শান্তি। শহরে ফিরে এসেও সেই লেপার্ডের চোখ, বাঘিনী আর শাবকদের জল খাওয়া, আর রাতের সেই হরিণের কাণ্ড বারবার মনে পড়েছে।

এই ভ্রমণ শুধু ঘোরার অভিজ্ঞতা নয়, বরং সাহস, সতর্কতা আর প্রকৃতিকে ভালোবাসার এক বড় শিক্ষা। আজও চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই সবুজে মোড়া জঙ্গল, ময়ূরের পেখম, আর সেই মা বাঘ ও তার তিনটি ছানার শান্ত জলপান।

জীবনের বহু ভ্রমণের মধ্যে জিম করবেটের এই তিন দিনই আমার কাছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও স্মরণীয়।