ঝিঙের খোসা ভর্তা
বাপ্পাদিত্য গুড়িয়া,
নতুন দিল্লি
অপচয় নয়, খোসাতেই জমুক স্বাদের আসর
ঝিঙে রান্না করার পর খোসা ফেলে দেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। অথচ সামান্য
কিছু উপকরণ আর একটু যত্নে এই খোসা দিয়েই তৈরি করা যায় অসাধারণ স্বাদের
ঝিঙের খোসা ভর্তা। গরম ভাতের সঙ্গে এই ভর্তার স্বাদ একেবারেই
অন্যরকম—সাদামাটা উপকরণে ঘরোয়া রান্নার অপূর্ব স্বাদ।
🥣 উপকরণ
ঝিঙের খোসা — ২ কাপ
পেঁয়াজ কুচি — ১টি মাঝারি
কাঁচা লঙ্কা — ২–৩টি
রসুন — ৩–৪ কোয়া
শুকনো লঙ্কা — ১–২টি
সর্ষের তেল — ১–২ টেবিল চামচ
নুন — স্বাদমতো
হলুদ — সামান্য
কালোজিরে — ½ চা-চামচ
প্রণালি
প্রথমে ঝিঙের খোসা ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। খোসাগুলি খুব মোটা
হলে সামান্য কুচিয়ে নেওয়া যায়।
কড়াইয়ে অল্প সর্ষের তেল গরম করে শুকনো লঙ্কা ও রসুন দিয়ে হালকা ভেজে
তুলে রাখুন। একই তেলে কালোজিরে ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ কুচি ও কাঁচা লঙ্কা
দিয়ে ভাজুন। পেঁয়াজ সামান্য নরম হয়ে এলে ঝিঙের খোসা, সামান্য হলুদ ও
নুন দিয়ে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করুন।
ঢেকে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। খোসা নরম হয়ে এলে ঢাকনা খুলে অতিরিক্ত জল
শুকিয়ে নিন। খোসা ভালোভাবে সেদ্ধ ও নরম হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করুন।
এবার ভাজা রসুন ও শুকনো লঙ্কা দিয়ে সবকিছু শিলনোড়া, হামানদিস্তা বা
হাতের সাহায্যে ভালোভাবে মেখে নিন। শেষে কাঁচা সর্ষের তেল এক চামচ
ছড়িয়ে দিয়ে আবার মেখে নিন।
গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন ঝিঙের খোসা ভর্তা। চাইলে উপর থেকে সামান্য
কাঁচা পেঁয়াজ ও একটি কাঁচা লঙ্কা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করা যায়।
ঝিঙের খোসা ভর্তার আসল স্বাদ বাড়ে সর্ষের তেল, রসুন ও শুকনো লঙ্কার
সংমিশ্রণে। খোসা ভাজার সময় বেশি জল দেবেন না—খোসার নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ
বজায় রাখাই এই ভর্তার বিশেষত্ব।
ফেলে দেওয়া খোসা যখন হয়ে ওঠে সুস্বাদু পদ, তখন রান্নাও হয়ে যায় আরও
সাশ্রয়ী, আর খাবারের অপচয়ও কমে।