দীঘা ভ্রমণ : নোনা হাওয়ায় ছোট্ট অবকাশ
রাকা নাথ,
কলকাতা
শনিবার, ২১ তারিখ দুপুরে বাড়িতে খেয়ে-দেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে বড়ো
মামির ঘরে উঠেছিলাম। একে একে মেজো মাসি, ছোট মাসি, ছোটন দাদা, ঝুমা দিদি
আর জামাইবাবুর সঙ্গে দেখা—ঘরটা যেন মুহূর্তেই হাসি-আড্ডায় ভরে উঠল। ভোর
সাড়ে চারটায় ছোট মামির ঘর থেকে বেরিয়ে বড়োমামার ঘরে ফাইনালি বাঁধা
ছাঁদা করে গুছিয়ে বাসে করে রওনা দিলাম হাওড়া।
১৯ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেন ছাড়তেই মনে হলো, ছোট্ট এই সফর যেন বড়ো
আনন্দের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগোচ্ছে।
দীঘায় পৌঁছে অটো করে স্টেট ব্যাঙ্কের কাছে মামার পরিচিত হলিডে হোমে
উঠলাম। প্রথম দিনেই সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের গর্জন শুনে, নোনা
হাওয়া আর অন্তহীন জলরাশিতে ঘেরা প্রকৃতির এক অপূর্ব মহিমা দেখে মনটা ভরে
গেল।
পরদিন সকালে জগন্নাথ দেবকে দর্শন করলাম ও মন্দিরে পূজা দিলাম; মনে এক
প্রশান্তির সুর বেজে উঠল।
তারপর ঘুরে দেখলাম মোহনা, আর ভবা পাগলার মন্দির। বিকেলে গেলাম তাজপুর ও
নিউ দীঘা-র সৈকতে। লাল কাঁকড়ায় ভরা বালুচর, ঢেউয়ের ছলাৎ-ছলাৎ শব্দ -
সব মিলিয়ে এক মায়াবী অনুভূতি। সৈকতে ঘুরতে ঘুরতে দশ টাকায় একটি কলমও
কিনে নিলাম, স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে।
ছোট্ট এই সফর শেষের পথে। কালই বাড়ি ফিরব। তবু মনে থাকবে সমুদ্রের সেই
নোনা গন্ধ, ঢেউয়ের ডাক আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দভরা
মুহূর্তগুলো।