চোখে দেখাটাই সব নয়(তৃতীয় পর্ব)

অর্ঘ্যদীপ গুড়িয়া,

নিউ-দিল্লি


পূর্ববর্তী অংশটি পড়ার জন্য লাইব্রেরি বিভাগে দেখুন...

এইভাবে কতক্ষণ কেটেছে জানেনা আদিত্য, ক্রমেই সন্ধ্যে পেরিয়ে বস্তির ঘর গুলোকে গ্রাস করছিল রাতের অন্ধকার। একটি লোক এসে ঘরের ভেতরে একটি আলো রেখে গেল, আর তার পিছেন পিছন আরো একটি লোক এসে আদিত্য এবং অন্য সব বাচ্চাদের মধ্যে চা আর বিস্কুট পরিবেশন করে গেল।

রাতের অন্ধকারে বস্তির ছোট ঘরের ভেতর, আদিত্য চুপচাপ বসে ছিল। চারপাশে শিশুরা ব্যস্ত, আর ভোলা বাউজি ধীরে ধীরে নিজের গল্প বলছিলেন।

- আদিত্য, তুমি নিশ্চয় ভাবছো যে আমি শুধুই একটি চোর। কিন্তু বাস্তবটা একটু অন্যরকম।

আদিত্য শুধু মাথা নাড়ল।

ভোলা বললেন—
- তখন আমি আট বছরের বাচ্চা, মা বাপ পরিজন পরিচয় হীন। ভিক্ষে করে কোন রকমে দিন চালাই। যেদিন কেউ দয়া পরবস হয়ে কিছু দেয় সেদিন পেটে কিছু যায়, নইলে কিছুই যায় না। গত দুদিন থেকে পেটে কোন দানা পানিও যায়নি, ভয়ংকর ক্ষুধার্ত ছিলাম। লক্ষ্য করলাম রাস্তার পাশেই একটা বাড়ি। গেটটা খোলাই ছিল। পায়ে পায়ে ঢুকে গেলাম বাড়ির ভেতরে। কোন লোক তেমনভাবে নজরে এলোনা। সোজা ঢুকে গেলাম রান্না ঘরের দিকে। এদিক ওদিক খোঁজ করতেই দেখলাম রান্না ঘরের স্লাবের উপর ঝুড়িতে ঢাকা দুটো রুটি। মন চাইছিল না চুরি করতে কিন্তু পাপি পেট মানতে নারাজ। তাই কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ রুটি দুটো চুরি করেছিলাম। বুঝতেও পারিনি বাড়িতে ছিলেন বয়স্ক দুই স্বামী-স্ত্রী। তারা আমার চুরি করা দেখতে পেলেন এবং চুপচাপ পিছন থেকে এসে আমাকে ধরে ও ফেললেন, কিন্তু খাবার কেড়ে নিলেন না বা মারধর ও করলেন না। তখন বুঝতে পারলাম, ছোট চুরি, কম ঝুঁকি। বড় চুরি করলে মার খেতে হবে, আর ছোট চুরির ব্যপারে সবাই চোখ এড়িয়ে চলে। সাহস বেড়ে গেল।

আদিত্য অবাক হয়ে শুনছে।

ভোলা বলে চলেছেন—
- আমার সাথে আমারই বয়সী প্রায় ৮-১০ জন ইয়ার দোস্ত মিলে আমরা একসাথেই ভিক্ষা করতাম। সবচেয়ে প্রথমে আমিই দলছুট হলাম, আমি ভিক্ষেয় না গিয়ে মন্দির মসজিদ বিভিন্ন জায়গা থেকে জুতো চুরি করা শুরু করলাম। এতে নিজের পেটতো ভরালামই, সাথে সাথে দু একটা বন্ধুকেও কখনো কখনো পেট ভরে ভালো মন্দ খাওয়ালাম। তারপর ধীরে ধীরে আমার ইয়ার দোস্তরাও ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে এক এক করে আমার সাথে যোগ দিল। আর আমার দলও তাতে করে বেশ ভারী হয়ে উঠলো অচিরেই।

ওই অতটুকুনি ছোট্ট বয়সেই ভগবান আমার মাথায় এইটুকু বুদ্ধি দিয়েছিল যে আমি ভাবলাম, ভিক্ষা কেন করব, ওতে লোকে সম্মান দেয় না দূর দূর করে, কখনো কখনো একজন বন্ধু-বান্ধব রাস্তায় গাড়ির ধাক্কাও খেয়েছে। তার চেয়ে বাচ্চারা এমন কোন কাজ করুক যাতে ঝুঁকি কম থাকে এবং নিরাপদে তারা তাদের পরিবার প্রতিপালন করার পরেও পড়াশোনা করে কিছু শিখবে। এবং তাদের নিজেদের জীবন পরিবর্তন করতে পারবে। তাই ধীরে ধীরে বস্তির ছেলেমেয়েদেরকে ও নিয়োগ করলাম। তারা দিনে স্কুলে যাবে, সন্ধ্যেবেলা ঘন্টা দুয়েক আর ছুটির দিনগুলোতে চুরি করবে। এতে সবাই উপকৃত, আমার উপার্জন বাড়বে, বস্তির ছেলে মেয়েরা খাবার পাবে, শিক্ষা পাবে। সেই থেকে শুরু। আমার দলের ছেলেপেলেদেরকে বস্তির লোকেরা ভূতের দল বলে ডাকতো আর আমাকে ডাকত ভূতের দলের সর্দার ভূতনাথ। কিন্তু এই ভূতনাথ নামটা আমার মোটেও পছন্দ ছিল না। ভোলেনাথের মন্দিরের পন্ডিতজীর থেকে একবার শুনেছিলাম ভূতনাথ মানেই নাকি ভোলানাথ। তখনই নিজের নামটা ভোলানাথ করেছিলাম, কিন্তু ক্রমে সেই নামটা কখন যে ভোলাবাউজি হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি। দীর্ঘ প্রায় ৪৮ বছর ধরে এই ব্যবসা চালাচ্ছি আমি।

আদিত্য মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনে চলেছে।
- আমি কখনো গ্রেপ্তার হইনি, কারণ সবকিছু খুব সূচারু ভাবে করেছি। চুরি করেছি, কিন্তু এতে সরাসরি কারও ক্ষতি হয়নি। আমি কখনো কাউকে মারিনি, কাউকে আঘাতও দিইনি। শুধু জুতো-চপ্পল নিলাম, বিক্রি করলাম, আর উপার্জন ভাগ করলাম।

আদিত্যর প্রশ্ন করল—এই ব্যবসার অর্থ কী?
ভোলা হেসে বললেন—
- জানো আদিত্য, অর্থ শুধু টাকা নয়। এটি শিশুদের শিক্ষার এবং বাঁচার উপায়। আমি তোমাকে আগেই বলেছি আমি চাইলেই বাচ্চাগুলোকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করতেই পারি কিন্তু তাতে করে ওদের মেরুদন্ড তৈরি হবে না। তাই আমি চেষ্টা করেছি যেন তারা সমাজের খারাপ পথে না যায়। নিজের আমার একটা অক্ষর জ্ঞান নেই কিন্তু আমি শুধু ব্যবসা করি না, শিক্ষার জন্যও অনেক কিছু করি।

আদিত্য ধীরে ধীরে বুঝতে লাগল, ভোলা শুধু এক সাধারণ চোর নয়। তার কৌশল, ধৈর্য্য, এবং পরিকল্পনা—সবই সামাজিক শিক্ষা এবং বস্তির শিশুদের নিরাপদ উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত।

ভোলা বললেন—
— অনেক হয়েছে আমি এবার অবসর নিতে চাই। শুধু অবসর নিতে চাই বললেই ভুল হবে, আমি আমার এই ব্যবসাটাই বন্ধ করে দিতে চাই। যথেষ্ট টাকা পয়সা আমি সঞ্চয় করেছি এই ব্যবসা থেকে। তাতে করে আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনায়াসেই চলে যাবে আগামী দিনে। অনেক বাচ্চাকে পড়াশুনা শিখিয়ে সম্মানজনক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছি আর আগামীতেও আশা রাখছি আমার স্কুল থেকে এমন অনেক বাচ্চা বেরোবে যারা সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচবে।

আমি সময় মতন বিয়ে করেছিলাম আমার স্ত্রী সন্তান বর্তমান। তুমি জানলে অবাক হবে আদিত্য, আমার ছেলে এম বি এ করা এক জন শিক্ষিত এবং বিদেশি এমএসসি তে মোটা মাইনের চাকরি করা ব্যস্ত একজন মানুষ। আমি আমার জীবনের এই আপাতদৃষ্টিতে ঘৃণ্য এবং অপরাধমূলক চক্র শেষ করতে চাই। কিন্তু তুমি আজ এখানে এসেছো, সব কিছু দেখেছো। তুমি সিদ্ধান্ত নেবে—আমি আসলেই কি অপরাধী নাকি একজন সমাজ বন্ধু যে সামাজিকভাবে কিছু ভালো করার চেষ্টা করেছি।

সব শুনে দেখে অদিত্য প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে ভোলাকে জিজ্ঞেস করল, তার এই রেকেট বন্ধ করার কথাটা কি সত্যি! নাকি কেবলই কথার কথা!

ভোলা শান্ত স্বরে জানালেন, তিনি ইতিমধ্যেই এই র‍্যাকেট বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আজ থেকে দশ দিন পর, নিজের জন্মদিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর ঘোষণা করবেন। তারপর সবকিছু থেকে অনেক দূরে বেঙ্গালুরুতে ছেলের সঙ্গে গিয়ে থাকবেন।

তিনি আরও বললেন, “তুমি চাইলে আমাকে ধরিয়ে দিতে পারো। কিন্তু আমি জানি, তুমি তা করবে না। তবুও সাবধান করে দিচ্ছি, —যা আমি এত বছর ধরে তৈরি করেছি, সেটার ক্ষতি করার কথা ভেবো না আদিত্য।”

অদিত্য হালকা হেসে বলল,#“আপনার উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মহৎ, তার জন্য আপনাকে সাধুবাদ জানাই। আর আপনার অবসরের জন্যও অনেক শুভেচ্ছা। কিন্তু আপনি যা করেছেন, তা অপরাধই থেকে যায়। আর্থিক দিকটা আমি খুব একটা বুঝি না বা আপনার অন্যান্য কাজের বিচার আমি করতে যাচ্ছি না, কিন্তু আপনার কাজ আমার মাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছে, শারীরিক কষ্টও দিয়েছে।#তবুও… আপনার স্বপ্ন, আপনার উদ্দেশ্য—সেগুলোও অস্বীকার করা যায় না। হয়তো এক অর্থে আপনার কাজ আর উদ্দেশ্য একে অপরকে ছাপিয়ে গেছে।#যাই হোক, আমি কিন্তু লক্ষ্য রাখবো, ৩রা নভেম্বরের সেই অবসরের দিনে…

আমি কি এখন যেতে পারি?”
ভোলা হেসে বললেন,#“আরে বাবা, বুড়ো মানুষটাকে একটু শ্বাস নিতে দাও! ঠিক আছে, তুমি আনুষ্ঠানিকভাবে আমার ৬৫তম জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রিত। সকাল ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পার্টি চলবে। আর সেদিনই সন্ধ্যা ৭:৪৫-এর ফ্লাইটে আমি বেঙ্গালুরু চলে যাব।”

এ কথা বলে তিনি অদিত্যর হাতে একটি আমন্ত্রণপত্র দিলেন। তারপর পাশে দাঁড়ানো একজন কর্মীর কাছ থেকে একটি বাক্স নিয়ে বললেন,#“এটা তোমার মায়ের জন্য।”

অদিত্য বাক্সটি খুলে দেখল—একজোড়া নতুন স্যান্ডেল, একই মডেল, একই রঙ।#ভোলা বললেন,#“এটার সাইজ ৬ নম্বর। ৫ নম্বরের জুতো ওনার ঠিকমতো হয় না, ওনাকে বলো। পুরোনো জোড়াটা আমরা বিক্রি করে দিয়েছিলাম, তাই এটা নতুন করে এনে দিলাম। আর হ্যাঁ, তুমি এখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আছো—তোমার মা নিশ্চয়ই চিন্তায় আছেন। তার হাতে এটা দিয়ে বলো, তুমি দেখেছিলে উনি এই ডিজাইনের জুতোটা খুব পছন্দ করেছিলেন তাই অনেক দোকান খুঁজে এটা নিতে তোমার একটু সময় লেগেছে।”

সেদিন অদিত্য সেখান থেকে বিদায় নিল।

৩রা নভেম্বর।
অদিত্য পার্টিতে পৌঁছল। সে ভেবেছিল, হয়তো মাতাল লোকজনেই ভরে থাকবে জায়গাটা। সে দেরিও করে ফেলেছিল— পার্টিতে পৌঁছতে পৌঁছতে তার প্রায় বিকেল ৩টা বেজে গিয়েছিল। তবুও সে এসেছিল, কারণ তার দায়িত্ব ছিল দেখা—ভোলা সত্যিই কথা রেখেছেন কি না।

কিন্তু ভিতরে ঢুকে সে যা দেখল, তা তার সমস্ত ধারণা ভেঙে দিল।
ফুলে সাজানো খাটের ওপর সাদা কাপড়ে ঢেকে নিথর হয়ে শুয়ে আছেন ভোলা।
একজন প্রায় চল্লিশ বছর বয়সী চশমা পরা ভদ্রলোক মাথা নিচু করে অঝোরে কাঁদছেন। অদিত্য তাড়াতাড়ি ভিতরে গিয়ে জানতে চাইল—কী হয়েছে?

অদিত্য জানতে পারল—গতরাতে, ঠিক জন্মদিনের শুভেচ্ছা নেওয়ার পর, যখন ভোলা তাঁর অবসরের কথা ঘোষণা করেছিলেন, তখনই তাঁকে খুন করা হয়। নিজেদের মধ্যেই কেউ এই কাজ করেছে, যে চায়নি এই অন্ধকার সাম্রাজ্য থেমে যাক।

যে কাঁদছিল, সে ভোলার ছেলে। খবর পেয়ে সকালের ফ্লাইট ধরে পৌঁছেছে। এখন তারা সবাই মিলে ভোলার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সব শুনে অদিত্য দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে গেল। সেই একমাত্র বাইরের মানুষ, যে এই পুরো চক্র সম্পর্কে জানে। বেশি সময় সেখানে থাকলে তার নিজের জীবনই বিপদের মুখে পড়তে পারে।

প্রথমে অদিত্য ভোলাকে শুধু একজন অপরাধী হিসেবেই দেখত। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছিল। তবুও তার মনে সন্দেহ ছিল—ভোলা কি তাকে প্রভাবিত করার জন্য মিথ্যা বলেছিলেন? সেই কারণেই সে নজর রাখছিল।

কিন্তু আজ, ভোলার নিথর দেহ দেখে, তার মনে এক অদ্ভুত কষ্ট হল।
এটা নিশ্চিত—ভোলা সত্যিই অবসর নিতে যাচ্ছিলেন। আর সেই কারণেই তাঁর মৃত্যু।
একদিক থেকে দেখতে গেলে ভোলা সত্যিই একজন অপরাধী, কিন্তু একই সঙ্গে, অসংখ্য আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য তিনি অনেক কিছু করেছেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল—ছেলের সঙ্গে শান্তিতে থাকা। কিন্তু........

অদিত্য কোথাও এই র‍্যাকেটের কথা জানায়নি। কারণ সে জানত—সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত। আর সত্য প্রকাশ করলে সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বে সে নিজেই।

এক বছর কেটে গেছে।
ঘূর্ণিওমান ঋতুচক্রে আবার আবির্ভাব হয়েছে শরৎ, আবার এসেছে দুর্গাপূজা। আবার সেই একই দৃশ্য—ছেলেরা স্যান্ডেল চুরি করছে।

অদিত্য এবার তার মাকে বলল, মণ্ডপের সামনে স্যান্ডেল খুলে না রাখতে। যখন তার মা পূজা করছিলেন সে নিজেই তা নিরাপদে রাখল।

তার মনে পড়ল ভোলার কথা।
মনে মনে বলল,#“ঠিক আছে, ওল্ড ম্যান… এবার তুমি বলোতো—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী? উদ্দেশ্য, না কাজ?#তোমার উদ্দেশ্য ছিল এই শিশুদের শিক্ষিত করা, বস্তির অন্ধকার থেকে তাদের তুলে আনা।#কিন্তু তোমার কাজ… তার নিজের ভাষায় কথা বলে।”

পরে অদিত্য একটি অজানা সূত্র থেকে জানতে পারল—বর্তমানে ভোলার অন্ধকার সাম্রাজ্যের প্রধান আর কেউ নয়, ভোলার নিজের ছেলে।#যে সেদিন কাঁদছিল—সেই-ই বাবার অ্যানাউন্সমেন্ট এর খবর জানতে পেরে লোক লাগিয়ে নিজের বাবাকে খুন করার নির্দেশ দিয়েছিল।

কোভিডের সময় চাকরি হারিয়ে, সমস্ত টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর, সে তার বাবার এই অন্ধকার জগতের ব্যবসার কথা জানতে পারে। ভোলার পরে সে নিজেই দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল, কিন্তু ঠিক তখনই জানতে পারে—ভোলা সব বন্ধ করে দিচ্ছেন।

তাই… তাকে পিতৃহত্যার মত জঘন্য কাজটি করতেই হয়েছিল।

ভোলার মৃত্যুর কিছুদিন পর “স্টাডিমেট” কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বাইরে থেকে এখনও চালু থাকলেও, এখন আর বাচ্চাদের জন্য কোনো সহায়তা দেয় না। বরং, এটি এখন অর্থপাচারের অভিযোগে খবরের শিরোনামে।

দীপাবলীর সন্ধ্যায়, টিভিতে স্টাডিমেটের খবর চলছিল।

চারিদিকে আতশবাজি আর বিজলী বাতির রোশনাই। বাড়িতে প্রদীপ জেলে পুজো সেরে তার মা নতুন পোশাক পরে পূজা মণ্ডকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। পায়ে সেই স্যান্ডেল—যেখান থেকে এই পুরো গল্পের শুরু।

আদিত্যর সামনে দাঁড়িয়ে তিনি হেসে জিজ্ঞেস করলেন,#“কেমন লাগছে আমাকে?”

অদিত্য কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল সেই স্যান্ডেলের দিকে—#একজন বৃদ্ধ মানুষের শেষ স্মৃতি।

যিনি একদিন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—#সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?#উদ্দেশ্য, না কাজ?

সমাপ্ত..............