বাসস্টপ
উজ্জ্বল দাস,
কলকাতা
শহরের প্রান্তে এক পুরনো বাসস্টপ। প্রতিদিন সন্ধে ছ’টায় সেখানে এসে
দাঁড়ায় আর্য। পেশায় একজন বিজ্ঞাপন লেখক, যে শব্দ দিয়ে মানুষের স্বপ্ন
বিক্রি করে, কিন্তু নিজের জীবনে কোনো গল্প লিখতে পারে না। একই সময়ে
বাসস্টপে এসে রোজ দাঁড়ায় ইরা। ইরা পেশায় একজন নার্স, সারাদিন মানুষের
সেবা করে রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরে।
দু’জনের দেখা প্রতিদিন, কথা হয় না। শুধু একটাই মিল, দু’জনেই বাস এলে আগে
জানালার পাশে বসতে চায়। একদিন বাসস্টপে হঠাৎ খুব বৃষ্টি নামে। বাস একটু
দেরিতে আসায় ভিজতে থাকে ইরা। আর্য নিঃশব্দে এগিয়ে গিয়ে মাথায় ধরে
নিজের ছাতাটা। কিন্তু কিছু বলে না। সেই নীরব মুহূর্তে প্রথমবার চোখে চোখ
পড়ে।গাভীর চোখে কী লেখা ছিলো সেদিন!
এরপর ছোট ছোট কথা শুরু হয়। পাঁচ মিনিটের আলাপ। কখনো কফি, কখনো কাজের
ক্লান্তির গল্প। আর্য বুঝতে পারে ইরার পাশে থাকলে তার শব্দের আর দরকার
হয় না। ইরাও বোঝে এই মানুষটা শুনতে জানে।
হঠাৎ একদিন ইরাকে আর দেখতে পায় না আর্য। আর আসে না ইরা। ফাঁকা ফাঁকা
লাগে বাসস্টপ। আর্য অপেক্ষা করে, দিন যায়, মাসও গড়িয়ে যায়। মাস কয়েক
পর হাসপাতালে গিয়ে সে জানতে পারে ইরা অন্য শহরে ট্রান্সফার নিয়েছে।
জানায়নি কাউকেই।
বছরখানেক পরে এক বিজ্ঞাপন পোস্টার দেখে ইরা থমকে দাঁড়ায়। নিচে ছোট করে
লেখা
“কিছু মানুষ বাসে ওঠে না, তবু জীবন বদলে দেয়।”
ইরার বুঝতে অসুবিধা হয় না, এ বিজ্ঞাপনের লেখা আর্যের।
ইরা হাসে।
“এই গল্পটা কিন্তু এখনো শেষ হয়নি।”
বাসস্টপে আবার বৃষ্টি নামে।