অ্যালার্ম আর নিঃশ্বাসের মাঝখানে

অদিতি মন্ডল,

কলকাতা

রাতের উষ্ণতা কাটিয়ে শীতল ভোর সবে আশাবরীর সুর ধরেছে।
অ্যালার্মের, তীক্ষ্ণ বাঁশি নিমেষে চিরে ফেলল সেই সুখদ নীরবতা।
ধড়মড়িয়ে উঠে অ্যালার্মের গলা বন্ধ করে।
সাবধানে দেখে— কোচি হাত-পা দুটো নড়ে উঠল না তো?
আলতো করে আঁচলটা ছোট্ট মুঠো থেকে ছাড়িয়ে নেয়।
কোচি বুকের ওঠা–পড়া দেখে নিশ্চিন্ত হয়—
ঘুম ঠিকই আছে।
সাবান-মাখা গলায় এখনও দুধের গন্ধ লেগে।
ঘরের আবছা অন্ধকারে বাঁধা চুলেও রয়ে গেছে ঘুমজড়ানো এলোমেলোতা।
নরম শরীরের স্পর্শ লেগে থাকা বুকের ওপর
ইউনিফর্মটা নতুন করে কঠোর হতে শেখায়।
চামড়ার মোটা বেল্টটা—
সে তো কেবল পোশাক নয়,
নিজেকে বেঁধে রাখার ছল।
বুটের ভারী ওজন
কোচি পায়ের ছাপের ওপর দায়িত্বের বন্ধন টেনে দেয়।
প্রস্তুত হওয়া হয়ে গেছে।
বিছানার পাশে ধীর পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে ইউনিফর্ম।
নরম বুকের ওঠা–পড়া।
ঘুমের ঘোরে এমনি চুষতে থাকা ছোট্ট ঠোঁট দুটো।
ইউনিফর্মের বোতামের গলিতে ঝরে পড়ে বাত্সল্যের উষ্ণতা।
মন চায়—
দায়িত্বের বন্ধন এড়িয়ে
আরও কিছুক্ষণ সময়ের বলগা চেপে রাখতে।

তবু সময় বয়ে চলে—
দায়িত্বের নির্মমতা শুষে নেয় ভেজা গলার শেষ উষ্ণতাটুকু।